বৃহঃস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত কয়েকদিন থেকে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করা হচ্ছে। যারা জনগণের সরকার চায় না, যারা দলীয় পারিবারিকগোষ্ঠী তান্ত্রিক সরকার চায়, যারা দেশকে গোলাম করে রাখতে চায়, তারা আমার এক্স আইডি হ্যাক করে আমার ওপর মিসাইল নিক্ষেপ করছে। ইতোমধ্যে আমাদের সাইবার টিম বিষয়টি শনাক্ত করেছে এবং আটকও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ শহরের এ টিম মাঠে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পর্যটন নিয়ে তিনি বলেন, জেলায় সম্ভবনাময় অনেক দর্শনীয় স্থান আছে। অবহেলা ও দুর্নীতির কারণে পর্যটন খাতে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা নওগাঁর পর্যটন নিয়ে কাজ করতে চাই।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ৫৪ বছরে বারবার বাংলাদেশ সুযোগ পেয়েছে। যারা শাসন ক্ষমতা এসেছেন তারা নিজেরা ক্ষমতাবান হয়েছেন। কিন্তু জনগণের ক্ষমতা তারা বৃদ্ধি করেন নাই। তারা জনগণের পকেট কেটে নিজেদের কপাল বড় করেছেন। জনগণের টাকা চুরি করেছেন, ডাকাতি করেছেন, ব্যাংক ধ্বংস করেছেন, বীমা ধ্বংস করেছেন। শেয়ার মার্কেট লুট করেছেন। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছেন। এই লুণ্ঠন করা টাকাগুলো দেশে রাখার সৎ সাহস ছিল না বলে বিদেশে পাচার করে দিয়েছেন। যার পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা কার? এই টাকা আপনাদের। জনগণের ঋণের টাকা, ট্যাক্সের টাকা চুরি করে এরা বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহ সুযোগ দিলে আমরা এই টাকা ফিরিয়ে আনব।
তিনি বলেন, জুলাইতে আমাদের যে সমস্ত যুবকরা, তরুণ-তরুণীরা, কৃষক-শ্রমিক যারা রাস্তায় নেমে লড়াই করেছিল তারা কারো কাছে দাবি করেছিল আমরা বেকার ভাতা চাই? আমাদেরকে বেকার ভাতা দিতে হবে? কেউ দাবি করে নাই। আজকে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রশ্ন উঠছে কেন? তারা তো সেদিন দাবি করেছিল, আমরা হাতে হাতে কাজ চাই আমাদেরকে কাজ দেন। আমরা যুব সমাজকে কথা দিচ্ছি ইনশাল্লাহ তাদেরকে শিক্ষা আর পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতগুলোকে দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসাবে মজবুত করে দেব ইনশাল্লাহ। আমরা তাদেরকে ভাষাভিত্তিক দক্ষতা এবং পেশাভিত্তিক দক্ষতা দুটোই হাতে তুলে দেব, ইনশাল্লাহ । সেদিন তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এবার কাজ করো দেশ তোমরা বদলে দাও।
কৃষি প্রধান জেলা নওগাঁকে নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নওগাঁয় ১০ ভাগের ১ ভাগ খাদ্যশস্য উৎপাদন করে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এ জেলা উন্নয়ন হয়নি। শহরের প্রধান সড়ক ফোরলেন এবং মানসম্পন্ন হাসপাতাল হওয়া দরকার। আগামীতে ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করা হলে জেলার উন্নয়ন করা হবে।
এ জেলার কৃষক বা খামারারি ফসল তাড়াহুড়ো করে বিক্রি করায় দাম পায় না, সারা বছর মানুষ খেতে পারে না। ধান ও ফল গবেষণা ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। সংরক্ষণাগার করা হবে, যেন সারা বছর ফসল সংরক্ষণ করে রাখা যায়। পুরো নর্থবেঙ্গলকে কৃষি শিল্পের রাজধানী করা হবে। একাধিক কৃষিপণ্য সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনি যদি আপনার মা-মেয়ে-স্ত্রীকে সম্মান করে থাকেন। তাহলে আপনার বাংলাদেশের নয় কোটি মাকেও সম্মান করতে হবে। আর যদি আপনার মাকে সম্মান করতে না জানেন তাহলে কাউকেই আপনি সম্মান করতে পারবেন না। মাকে সম্মান করতে শিখুন। তারপরও বলে দিচ্ছি যদি এ রাস্তা থেকে ফিরে না আসেন, হুমকি-ধামকি গায়ে হাত তোলা যদি বাদ না দেন মনে রাখবেন জুলাইয়ের বিপ্লবীরা ঘুমায় পড়েনি। আবার বিস্ফোরিত হবে গর্জে উঠবে। মায়ের অপমান সহ্য করবে না।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)