মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২


রাজশাহী বিভাগে বাড়ছে হাম, ৯ মাসের নিচে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত

রাজশাহী থেকে

প্রকাশিত:৩০ মার্চ ২০২৬, ১০:২৭

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

রাজশাহী বিভাগে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বিগত বছরের তুলনায় বেড়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা জেলায় আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা অন্যসব জেলার চেয়ে বেশি। আর রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা হামে আক্রান্ত শিশু রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

তবে হঠাৎই হাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ৯ মাস পূর্ণ হলে হামের টিকার প্রথম ডোজ। আর ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এছাড়া তিন বছর পর পর ক্যাম্পেনে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। তবে এবার হাম আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুই ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী। দুই বছর বয়সী শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের সংখ্যাও কম নয়।

চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হাম রোগের চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরেও ৯ জনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সবশেষ শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে তিন শিশুকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে- হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা নেওয়ার বয়স হয়েছিল কিনা? তারা ঠিকমতো টিকা নিয়েছিল কিনা? আর টিকা কার্যক্রম চালু ছিল কিনা?

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ায় সংক্রমণের হার স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগে ৭৭ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ৯ মাস বয়সের নিচে থাকা শিশু। আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের দ্রুত টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

সীমান্ত এলাকা ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে। এই সংক্রমণ সীমান্ত দিয়ে আসা বহিরাগত কোনো সমস্যা নয়। স্থানীয়ভাবে এটি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।

এদিকে, রাজশাহী জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই টিকা গ্রহণের উপযুক্ত বয়সের নিচের শিশু। সংক্রমণ ঠেকাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠ পর্যায়ে সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্তকরণ এবং দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে বের করে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই আগামী বছরে একটি বৃহৎ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরুর প্রস্তুতির কথাও এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের মুখপাত্র শংকরকে বিশ্বাসকে একাধিক বার কল করেও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় গেল ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া যায়। এতে আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তবে সংক্রমণের দিক থেকে বিভাগের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় বেশি। গেল ১ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পর্যন্ত রাজশাহীতে ৮৪ জন হামের রোগীকে আইসিইউয়ে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউয়ে নেওয়ার পরও ৯ জন ও আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে, বিভাগের সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জেলার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রয়েছে। এই জেলায় গত তিন থেকে চারবছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করেছে। এ কারণে এবার হামের রোগী বেশি পাওয়া গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মাহফুজ রায়হান বলেন, এটা মারাত্মক ছোঁয়াছে রোগ। আবার অনেক বাচ্চা টিকা নেয়নি। আবার ৯ মাসের নিচের বাচ্চাগুলো বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মৃত্যুহারও যথেষ্ট বেশি এবং আক্রান্তের হারও বেশি। আমাদের সদর হাসপাতালে যে বাচ্চাগুলো ভর্তি হচ্ছে তার মধ্যে ৯৫ ভাগ বাচ্চাকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম।

এই চিকিৎসক আরও বলেন, গত তিন থেকে চার বছরে অনেক বাচ্চা হামের টিকা মিস করার কারণে এবার হামের মহামারি দেখা গেছে। কেন মিস করেছে সেটার অনেকগুলো ব্যাখ্যা আছে। হাম আক্রান্ত হয়ে গেলে বাচ্চাগুলোকে আইসোলেশনে রাখতে হবে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. এসআইএম রাজিউল করিম বলেন, রাজশাহী জেলায় এখন পর্যন্ত রোগটি সেভাবে বৃদ্ধি পায়নি। জেলায় ৪৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০ জন পজিটিভ পেয়েছি। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে সুস্থভাবে চলে গেছে। জেলার রোগীদের মধ্যে কোনো মৃত্যু নেই। তবে জেলার তিন উপজেলায় গোদাগাড়ীতে ১৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। জেলার ৯টা উপজেলার মধ্যে ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী বাচ্চারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তারা টিকা নেওয়ার আগেই আক্রান্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী, কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত সবাইকে এলাট করেছি সন্দেহজনদের খুঁজে বের করে দ্রুত আইসোলেশনের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। অনেকে টিকার সময় মিস করে পরে আর টিকা নেয় না, আবার অনেকে একটা ডোজ নিয়েছে অন্য একটা নেয়নি। এমন যারা তাদের খুঁজে বের করে টিকার আওতায় দ্রুত নিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

টিকা দানে বিলম্ব হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামের টিকা ৯ মাস পূর্ণ হয়ে গেলে প্রথম ডোজ আর ১৫ মাসে হলো দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। আর এমনি তিন-চার বছর অন্তর অন্তর একটা ক্যাম্পেইন হয়। যেখানে আমরা আন্ডার ফাইভ বাচ্চাদেরকে টিকা দিয়ে থাকি। এটা ২০২৫ সালের অক্টোবর দিকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দেওয়া হয়নি। এ টিকা ২০২৬ সালের মে মাসের দিকে দেওয়া হবে আশা করছি।

টিকা না পাওয়ার কারণে কি আক্রমণ বেড়েছে এমন কথার উত্তরে তিনি বলেন, যেহেতু যারা আনভ্যাক্সিনেটেড তারাই বেশি আক্রান্ত হয়েছে। ওইটা তো টিকা না দেওয়ার কারণের মধ্যে আসছে না। যারা ভ্যাকসিন পাওয়ার বয়সে এসে পৌঁছায়নি তারাই মূলত বেশি আক্রান্ত হয়েছে, তাদের বয়স ৯ মাসের কম। রাজশাহী জেলায় বিগত এক বছর নিয়মিত হামের টিকা প্রদান করা হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, বিগত বছরের তুলনায় হাম আক্রান্ত শিশু তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। আমাদের একটা ক্যাম্পেইন করার কথা ক্যাম্পেইনটা ডিলে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমাদের রেগুলার কথা হচ্ছে। স্যাম্পলগুলা তারা আইইডিসিআর থেকে পরিচালনা করে নিয়ে আসতেছে, আমাদের নলেজ নেই। তবে দুই বছর নিচে বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হয়েছে। নয় মাসের টিকার পরেও কিছু হয়তো আক্রান্ত হয়েছে, আমরা দেখছি। চিকিৎসা চলছে এবং সেই সঙ্গে আমরা দেখব যদি বাকিদের ভ্যাক্সিনেশন করা যায় কিনা।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:৩৭ - ৫:৪৮ ভোর
যোহর ১২:০৩ - ৪:১৯ দুপুর
আছর ৪:২৯ - ৬:০৮ বিকেল
মাগরিব ৬:১৩ - ৭:২৪ সন্ধ্যা
এশা ৭:২৯ - ৪:৩২ রাত

মঙ্গলবার ৩১ মার্চ ২০২৬