রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩


ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটক আ.লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি, আটক ৩

ঝিনাইদহ থেকে

প্রকাশিত:১০ মে ২০২৬, ১৫:৪১

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুরে সাজ্জাদুল ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটকের পরে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনা প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই লাখ টাকার একটি চেক হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী বাদী হয়ে ৩ জনের নামে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্ত ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১০ মে) মহেশপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মৃত মঈনুদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমান ছোট ও মহেশপুরের কুরিপোল গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম আলীর ছেলে মো. ফিরোজ।

এদিকে পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগীর এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ খালিশপুর বাজারের পাশে একটি বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ওই বাড়ির গৃহবধূকে ধর্ষণের করেন। ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয় দু'জন ঘটনাস্থলে এসে আওয়ামী লীগের ওই নেতাকে আটক করেন। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী ও দুই যুবক মিলে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে ঘটনা চেপে রাখতে সম্মত হন। কথা মতো, আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম ওই নারীর স্বামী ও দুই যুবককে এক লাখ টাকা দেয়। পরে তারা আওয়ামী লীগ নেতাকে জিম্মি করে আরও টাকা দাবি করলে তিনি দুই লাখ টাকার একটি চেক দেন।

ঘটনার চার দিন পরে ৯ মে শনিবার সাজ্জাদুল ইসলামকে আসামি করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগের পর বেলা আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে একইদিন আটক আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা মহেশপুর থানায় বাদী হয়ে তার স্বামীকে মারপিটের ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবি ও আদায়ের অভিযোগ করেন। আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রীর লিখিত অভিযোগের পরে ৩ জনকে আটক করে পুলিশ।

আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী তাহমিনা শম্পা গণমাধ্যমকে জানান, গত ৫ মে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে ওই বাড়িতে ডেকে নেয় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকারী নারী। আমার স্বামীকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তার কাছ থেকে ব্যাংক চেক লিখে নেয় প্রতারকরা। শনিবার (৯ মে) সেই চেক আনতে গেলে তাকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তাহমিনা শম্পা আরও জানান, কিছুদিন আগে ওই নারীর বাড়ি থেকে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় ওই নারী কারাগারেও ছিল।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগকারী নারী গণমাধ্যমকে জানান, বাড়িতে একা থাকার সুযোগে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ তাকে হেনস্তার চেষ্টা করে। ওই সময় ভুক্তভোগী নারী চিৎকার দিলে বাড়ির সামনে দোকানে থাকা দুই যুবক এসে সাজ্জাদুল ইসলামকে আটক করে। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন। ওই সময় বিষয়টি কাউকে না জানানোর শর্তে, ভুক্তভোগীর স্বামী ও তার দুই সহযোগী অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামের কাছ থেকে টাকা ও ব্যাংকের চেক নেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরে ভুক্তভোগী নারী, তার স্বামী ও স্বামীর সহযোগীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলাম কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা করেন। গোপনে একাধিকবার সালিশও করেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, আমি এটুকুই বলতে পারি যে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে আমার কথা বলাটা সমীচীন নয়। ওসি স্যার আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

এ বিষয়ে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসান বলেন, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি যেমন সত্য, অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও চেক নেওয়ার ঘটনাও সত্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। চাঁদাবাজি ও আদায়ের অভিযোগের পরে তিন জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

 

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৭ - ৫:১৪ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২২ দুপুর
আছর ৪:৩২ - ৬:২৬ বিকেল
মাগরিব ৬:৩১ - ৭:৪৮ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৩ - ৩:৫২ রাত

রবিবার ১০ মে ২০২৬