রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩


স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও হয়নি সেতু, ২০ গ্রামের মানুষের ভরসা কাঠের সাঁকো

টাঙ্গাইল থেকে

প্রকাশিত:১০ মে ২০২৬, ২১:৫০

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর নির্মিত কাঠের সাঁকো এলাকাবাসীদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। কিন্তু উপজেলার খাটরা গ্রামে কাঠের সাঁকোটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যার ফলে ১৫-২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর হয়ে গেলেও এ নদীর ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাঁকো দিয়ে হেঁটে যাতায়াত সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে দুর্ঘটনা। উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্বাচন আসলে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দেয় ব্রিজ করে দেবে। নির্বাচন গেলে আর খোঁজ থাকে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, বাসাইল উপজেলার ফুলকি ইউনিয়নের ফুলকি ও খাটরা, বল্লা, কাজিপুরসহ ১৫-২০টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র রাস্তা এই কাঠের সাঁকো। কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমকি বিদ্যালয়, ব্যাংকের শাখা, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ হাজারও মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই কাঠের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে। কালিহাতী উপজেলার রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে থাকেন। প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন, স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো গেল, কেউ এই ব্রিজটি করে দেয় না। শুধু বলেই এই ব্রিজ করে দিমু, কিন্তু এই ব্রিজ করে দেয় না। নির্বাচন আসলে বলে এই ব্রিজ করে দিমু, নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না। আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার। হাজার হাজার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে।

অটোচালক রিপন বলেন, এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই কাঠের সাঁকো অনেক সময় নষ্ট হয়ে যায়। পরে টাকা তুলে আমাদের এই কাঠের সাঁকো ঠিক করতে হয়।

আরেক অটোচালক আজমত আলী বলেন, এই ব্রিজ করে দেবে অনেকেই কথা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি। আমাদের কাঠের ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই ব্রিজে আমি দুর্ঘটনার শিকার হই। তক্তা ভেঙে আমার অটোগাড়ি নিচে পড়ে যায়। পরে ৬ জনে মিলে আমার অটোগাড়ি উপরে তুলি। কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া অতি প্রয়োজন।

স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, আমাদের এই যে কাঠের ব্রিজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বিভিন্ন এলাকার মানুষ এই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করে। ভ্যান-অটো, সিএনজিগুলো ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সকাল হলেই শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যায়। যখন এই ব্রিজের ওপর দিয়ে মানুষ চলাচল করে, তখন মনে হয় ব্রিজটি দুলছে। সরকারের কাছে আবেদন যে, এই ব্রিজটি যেন দ্রুতই করে দেয়।

বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে। অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্রই এই খাটরা ব্রিজ টেন্ডার আহ্বান করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। মন্ত্রী তাগিদ দিচ্ছেন, এই ব্রিজটি যেন যত দ্রুত সম্ভব করা হয়। অনূর্ধ্ব একশো প্রকল্পে যদি সময় লাগে, তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজ করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন মন্ত্রী। খাটরা ব্রিজের ব্যাপারে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী ও টাঙ্গাইল নির্বাহী প্রকৌশলী সচেষ্ট রয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৭ - ৫:১৪ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২২ দুপুর
আছর ৪:৩২ - ৬:২৬ বিকেল
মাগরিব ৬:৩১ - ৭:৪৮ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৩ - ৩:৫২ রাত

রবিবার ১০ মে ২০২৬