বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩


জাতীয় বাজেটে কৃষির গুরুত্ব ও বাস্তবতা

সমীরণ বিশ্বাস

প্রকাশিত:১৩ মে ২০২৬, ১৬:১৩

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং গ্রামীণ জীবিকার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো কৃষি। দেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং শিল্পখাতের কাঁচামাল সরবরাহে কৃষির অবদান অপরিসীম।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যাওয়া, উচ্চফলনশীল জাতের উদ্ভাবন, সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তবে বর্তমানে কৃষিখাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সারের ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আবাদযোগ্য জমি হ্রাস এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে খাদ্য ও কৃষি উপকরণের সরবরাহ ব্যবস্থাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিখাতকে আরও টেকসই ও আধুনিক করা জরুরি।

এই বাস্তবতায় জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া সময়ের দাবি। কৃষকদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, ভর্তুকি বৃদ্ধি, গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষিবীমা সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। কারণ কৃষি শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতি মজবুত হবে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং গ্রামীণ জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হলো কৃষি। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের উন্নয়নযাত্রায় কৃষি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম হিসেবেই নয় বরং দারিদ্র্য বিমোচন, শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুধু একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের কৌশলগত অংশ।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের খাদ্য চাহিদা পূরণে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, শাকসবজি ও মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে সরকারি বাজেটের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। সরকার বাজেটের মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত বীজ, সার, সেচ ও প্রণোদনা প্রদান করে থাকে। এর ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমে। বৈশ্বিক যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট বা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সময়েও অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৃষি বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

কৃষক কার্ড কার্যক্রম: বাংলাদেশ সরকারের কৃষক কার্ড কার্যক্রম কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী উদ্যোগ। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে, যা ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান।

স্বল্পমূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি: সুবিধা, স্বল্প ব্যয়ে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, কৃষক কার্ড থাকলে তাৎক্ষনিক সেবা প্রাপ্তি, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ, কৃষি বীমা সুবিধা, ন্যায্য মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের নিশ্চয়তা, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য সুবিধা, মোবাইলে ফসলের রোগ-বালাই নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা।

বিভিন্ন সরকারি সহায়তা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বিশেষ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা প্রদানে এই কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে রূপান্তর এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকার্ড কার্যক্রম বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে একটি কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

কৃষকদের সহায়তা ও ভর্তুকি: বাংলাদেশে কৃষি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল পেশা। সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ ও কীটনাশকের দাম বাড়লে কৃষক মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই সরকার কৃষি বাজেটে ভর্তুকি প্রদান করে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর চেষ্টা করে।

বিশেষ করে ইউরিয়া সার, ডিজেলচালিত সেচ এবং কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি কৃষকের জন্য বড় সহায়তা। কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, ট্রান্সপ্লান্টারের মতো আধুনিক যন্ত্রে ভর্তুকি কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করছে। এতে শ্রম সংকট কমছে এবং উৎপাদন দ্রুত ও কার্যকর হচ্ছে।

গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখা: বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি। কৃষকের হাতে টাকা এলে স্থানীয় বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা, পরিবহন ও সেবা খাত সক্রিয় হয়। কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি মানে গ্রামের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়া। কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থান দারিদ্র্য কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারী কৃষক ও ক্ষুদ্র যুব উদ্যোক্তাদের জন্য কৃষি বাজেট গ্রামীণ উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে। ফলে শহরমুখী জনসংখ্যার চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হয়।

কৃষি প্রযুক্তি ও আধুনিকায়ন: বিশ্ব এখন স্মার্ট কৃষির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর করার জন্য বাজেটে নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তি, AI-ভিত্তিক কৃষি পরামর্শ, IoT সয়েল সেন্সর, স্মার্ট সেচব্যবস্থা এবং ডিজিটাল কৃষি তথ্যসেবা কৃষিতে নতুন যুগের সূচনা করেছে। বিষয়ে পাবলিক এবং প্রাইভেট (PPP) তে অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার এখনি সময়।

কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি শুধু উৎপাদন বাড়ায় না, বরং পানি, সার ও কীটনাশকের অপচয়ও কমায়। ভবিষ্যতের কৃষি হবে তথ্যভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর, এ বাস্তবতা বিবেচনায় বাজেটে প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

খাল খনন, সেচ ও কৃষি ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশে বোরো ধানসহ অধিকাংশ ফসল সেচনির্ভর। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে যাওয়া, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সেচব্যবস্থার অদক্ষতা কৃষিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তাই বাজেটে সোলার সেচপাম্প, খাল পুনঃখনন, পানি সংরক্ষণ এবং আধুনিক ড্রিপ ও স্প্রিংকলার সেচব্যবস্থায় বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। দক্ষ পানি ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখা কঠিন হবে। এছাড়া কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল মনিটরিং ও তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বন্যা, খরা, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত কৃষিকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলছে। তাই কৃষি বাজেটে জলবায়ু সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির জন্য বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।

লবণসহিষ্ণু ধান, খরাসহিষ্ণু ফসল, ভাসমান কৃষি ও জলাবদ্ধতা সহনশীল জাত উদ্ভাবনে বিনিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে কৃষি বীমা ও দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় কৃষিকে অভিযোজন সক্ষম করা এখন সময়ের দাবি।

কৃষিপণ্য রপ্তানি ও বৈদেশিক আয়: বাংলাদেশ শুধু খাদ্য উৎপাদনেই নয়, কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও সম্ভাবনাময় দেশ। চা, পাট, সবজি, ফল, মাছ, ফুল ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা তৈরি করছে। বাজেটে যদি কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি সুবিধা বাড়ানো হয়, তাহলে কৃষি থেকে বৈদেশিক আয় আরও বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নিরাপদ ও অর্গানিক খাদ্যের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের বড় সুযোগ রয়েছে। কৃষিকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে কার্যকর বাজেট অপরিহার্য।

শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ: বাংলাদেশের বহু শিল্প কৃষির উপর নির্ভরশীল। পাটশিল্প, চিনি শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, চা শিল্প এবং বস্ত্রশিল্পের কিছু অংশ সরাসরি কৃষিভিত্তিক। কৃষি উৎপাদন কমে গেলে এসব শিল্পও সংকটে পড়ে। তাই কৃষি শক্তিশালী হলে শিল্পও শক্তিশালী হয়। কৃষি ও শিল্পের মধ্যে সমন্বিত সম্পর্ক তৈরি করতে বাজেটে কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপনে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন। এতে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং শিল্প খাত স্থিতিশীল কাঁচামাল পাবে।

টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা: কৃষিতে বিনিয়োগ মানে শুধু খাদ্য উৎপাদন নয়; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি। কৃষকের আয় বাড়লে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা উন্নত হয়। গ্রামীণ বেকারত্ব কমে এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাস পায়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনেও কৃষির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাজেটে কৃষিকে গুরুত্ব দেওয়া মানে একটি স্থিতিশীল ও মানবিক অর্থনীতি গড়ে তোলা।

সহজ শর্তে ঋণ ও ক্রপ ইনস্যুরেন্স: ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সহজ শর্তে ঋণ না পাওয়া। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নেন। তাই কৃষি বাজেটে স্বল্পসুদে কৃষিঋণ ও ডিজিটাল আর্থিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। পাশাপাশি ক্রপ ইনস্যুরেন্স বা ফসল বীমা চালু করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে কৃষক যেন পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য বীমা ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নত বিশ্বের মতো কৃষি বীমা বাংলাদেশেও কৃষকদের নিরাপত্তা দিতে পারে।

প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও নতুন জাত উদ্ভাবন:

কৃষির উন্নয়নে গবেষণা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। নতুন রোগ প্রতিরোধী, উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কৃষকদের মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল কৃষি শিক্ষা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি উদ্ভাবকদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে বাজেটে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ প্রয়োজন। কারণ গবেষণাভিত্তিক কৃষিই ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

সবশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলো কৃষি। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতির গতি এবং শিল্পখাতের কাঁচামালের বড় অংশই কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই জাতীয় বাজেটে কৃষিখাতকে শুধু একটি উৎপাদন খাত হিসেবে নয় বরং একটি কৌশলগত ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট খাত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা কৃষিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প সম্প্রসারণে বাজেটের কার্যকর বরাদ্দ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহজ ঋণ, ভর্তুকি, কৃষিবীমা ও বাজার সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

একটি বাস্তবমুখী, সময়োপযোগী ও কৃষকবান্ধব বাজেট কেবল খাদ্য উৎপাদনই বাড়াবে না; বরং দারিদ্র্য হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ উন্নয়নের পথও সুদৃঢ় করবে। কৃষি শক্তিশালী হলে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, জাতীয় নিরাপত্তা আরও মজবুত হবে এবং বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল উন্নয়নের পথে আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটে কৃষির গুরুত্ব শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি জাতীয় অস্তিত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। আধুনিক প্রযুক্তি, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষকবান্ধব ভর্তুকি, গবেষণা, রপ্তানি এবং কৃষি বীমাকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়ন করা গেলে কৃষি হবে দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি। কৃষিকে বাঁচানো মানে শুধু কৃষককে বাঁচানো নয়, বরং পুরো দেশের অর্থনীতি, শিল্প, খাদ্য ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করা।

সমীরণ বিশ্বাস : কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৫৪ - ৫:১২ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২৩ দুপুর
আছর ৪:৩৩ - ৬:২৭ বিকেল
মাগরিব ৬:৩২ - ৭:৫০ সন্ধ্যা
এশা ৭:৫৫ - ৩:৪৯ রাত

বুধবার ১৩ মে ২০২৬