বৃহঃস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে হত্যার দায় স্বীকার করা সোহেল রানার শাস্তি চেয়েছেন তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরাও। সোহেল রানার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে।
চার বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। এরপর থেকে গ্রামে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে মহেষচন্দ্রপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় সোহেল রানার বাবা-মা সহ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে।
রানার গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী আব্দুল আওয়াল বলেন, ছোটবেলায় ওর নাম ছিল শুধু রানা। পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর তার আর পড়লেখা হয়নি। তবে তরুণ বয়সে স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে ব্যাপক পরিচিতি পায়। তখন তিনি নিজেকে এস এম রানা বলে পরিচয় দিতেন। এখন শুনছি তিনি ঢাকায় সোহেল রানা হিসেবে পরিচিত। তরুণ বয়সে স্থানীয় একটি সেতুর নির্মাণ সামগ্রী চুরির মামলায় আসামি হয়ে জেলও খেটেছে সোহেল।
মহেশচন্দ্রপুর বাজারে গিয়ে কথা হয় রানার চাচা রেজাউল করিমেরস সঙ্গে। ঢাকায় যাওয়ার আগে এই বাজারেই সোহেল রানার সাইকেল মেরামতের দোকান ছিল।
রেজাউল করিম বলেন, রানা গ্রামের বাজারে সাইকেল মেকার ছিল। পাশের গ্রামে বিয়ে করে একটি সন্তান হওয়ার পর ওই স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয়। ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে কিছু সমস্যা হওয়ায় ওই সংসার টিকে নাই। পরে বালুয়াবাসুয়া গ্রামের অন্য এক মেয়েকে বিয়ে করে চার বছর আগে ঢাকায় চলে যায়। এরপর আর বাড়ির সাথে তার যোগাযোগ ছিল না।
সোহেল রানার বাবা-মায়ের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাওনি ও টিনের বেড়ার বাড়ির ভেতরে শুনশান নীরবতা। বাইরে থেকে ডাকতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এলেন সোহেল রানার মা খদেজা বেগম।
ছেলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব ছেলের প্রতিই বাবা-মায়ের ভালোবাসা থাকে। কিন্তু রানা যা করেছে, এরপর আর তাকে ভালোবাসা যায় না। আমরা তার বিচার চাই, শাস্তি চাই। সে খুবই খারাপ কাজ করেছে। তখন তার মাথায় যেন শয়তান ভর করেছিল।
বাবা জেকের আলী বলেন, আমার ছেলে এত খারাপ একটা কাজ করতে পারে বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কাজটা তো সে করেছে। আমি ওর বিচার চাই। আইন আদালত যে শাস্তি দিবে আমরা তা মেনে নেবো।