বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩


৫০ বছরেও হয়নি সেতু

রশি টানা নৌকায় নদী পার হয় পাঁচ গ্রামের মানুষ

সুনামগঞ্জ থেকে

প্রকাশিত:১ জুলাই ২০২৬, ১৩:৩২

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের আলীপুরে বিগত পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ। ফলে প্রতিদিনই রশি টেনে খেয়া নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে পারাপার হতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ হাজারো মানুষ। অসুস্থ রোগী, কর্মজীবী কিংবা জরুরি প্রয়োজনে ছুটে চলা কেউই এ দুর্ভোগের বাইরে নন। এলাকাবাসীর ভোগান্তি দিন দিন বাড়লেও সেতুর কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে।

দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাঁচ বছর পরও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ। ফলে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের নুরপুর, আলীপুর, সুনাপুর, বৈঠাখাই ও হাসনবাহার গ্রামবাসীদের ভাগ্যে এখনো জোটেনি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছর ধরে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট দিয়ে রশি টেনে নৌকায় খাসিয়ামারা নদী পার হচ্ছেন এসব গ্রামের বাসিন্দারা। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে পারাপার সম্ভব হলেও পাহাড়ি ঢল নামলে নদী ভয়ংকর রূপ নেয়। তখন নৌকায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় বাধ্য হয়েই রশি টেনে নদী পার হন তারা।

দীর্ঘদিনের দাবির পর খাসিয়ামারা নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২২ সালে আলীপুর-টেংরাটিলা খেয়াঘাট এলাকায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ৫০০ মিটার চেইনেজে নির্মাণাধীন এ সেতুর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি।

আলীপুর গ্রামের বাসিন্দা রুমন মিয়া বলেন, এই ব্রিজের কাজ শেষ হলে আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াত সহজ হতো, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া সুবিধা হতো। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে ধীর গতিতে কাজ চলছে। কখনো শ্রমিক আসে, আবার অনেক দিন কাজ বন্ধ থাকে। এভাবে চললে আরও কয়েক বছরেও কাজ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। আমরা দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাই।

স্থানীয় মোটরসাইকেলচালক বিল্লাল হুসেন বলেন, এক বছর কাজ হলে, আরেক বছর বন্ধ থাকে। শুনেছি শ্রমিকদের ঠিকমতো টাকা দেওয়া হয় না বলেই তারা কাজ ছেড়ে চলে যায়। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে পারাপার খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

খেয়া নৌকার মাঝি আম্বর আলী বলেন, গত চার-পাঁচ বছর ধরে ব্রিজের কাজ কখনো চলে, কখনো বন্ধ থাকে। রাতে এক-দুইটার সময়ও রোগী নিয়ে মানুষ ফোন করে নদী পার করে দিতে বলে। ব্রিজটি হয়ে গেলে কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্টের অবসান হবে।

সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, খাসিয়ামারা নদীর ওপর নির্মাণাধীন প্রায় ৭২ মিটার সেতুর অধিকাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে একটি স্লাব এবং দুই পাশের অ্যাপ্রোচের এক পাশের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত অবশিষ্ট কাজ শেষ করার জন্য তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে যে কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিলে প্রকল্পটি আরও বিলম্বিত হবে। তাই বর্তমান ঠিকাদারের মাধ্যমেই দ্রুত বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৫ - ৫:০৮ ভোর
যোহর ১২:০১ - ৪:৩১ দুপুর
আছর ৪:৪১ - ৬:৪৪ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৯ - ৮:১২ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৭ - ৩:৪০ রাত

বুধবার ১ জুলাই ২০২৬