মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২
ফাইল ছবি
ঈদের আগে প্রতিবছরই বাজারে নতুন টাকার নোট ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন নোট বাজারে না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিপুল পরিমাণ নতুন নোটের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের এক অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নতুন নোট বিতরণ শুরু করেছে। আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে যুগ্ম পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা প্রত্যেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট নিতে পারবেন।
আর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সাধারণ কর্মচারীদের জন্যও সর্বোচ্চ ৬৮ হাজার টাকার নতুন নোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, গত ৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বরাদ্দ আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমন দ্বিমুখী ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন ব্যাংকেরই অনেক কর্মকর্তা। তাদের মতে, একদিকে ডিজিটাল লেনদেন ও নগদ টাকার ব্যবহার কমানোর কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিজেদের জন্য ঠিকই বিপুল নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে।
ঈদের আনন্দ ও শিশু-কিশোরদের ঈদ সালামির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো নতুন টাকার ঝকঝকে নোট। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু এবার সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় হতাশ সাধারণ নাগরিকেরা।
রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান ও ফার্মগেট এলাকায় সারা বছরই নতুন নোট কেনাবেচার অস্থায়ী দোকান বসে। ঈদের সময় এই ব্যবসা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ ব্যাংক থেকে নতুন টাকা না পেলে বাধ্য হয়ে এই ফুটপাতের দোকান থেকে চড়া কমিশনের বিনিময়ে টাকা কেনেন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ঈদের আনন্দ অনেকটা ম্লান করে দেবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
প্রতিবছর ঈদের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন কাগজের নোট পর্যাপ্ত করে গ্রাহকদের মাঝে বিনিময় বা সরবরাহ করে থাকে। এসব নোট ঈদের সময় পরিবার-পরিজন বা শিশুদের ঈদ সালামি হিসেবে দেওয়া হয় এবং এক ধরনের সাংস্কৃতিক অভ্যাস হিসেবে চাহিদা থাকে। কিন্তু এবার সেই সুযোগ দিচ্ছে না ব্যাংক।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বিশেষ কোনও উৎসব বা নির্দিষ্ট দিন উপলক্ষে নতুন নোট ছাড়ার পরিকল্পনা আপাতত নেই। বাজারে চাহিদা অনুযায়ী সারা বছরই নতুন নোট সরবরাহ করা হবে। ঈদের আগে নতুন টাকা দেওয়া হচ্ছে এমন কোনও তথ্য আমার কাছে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এখন ঈদের আগে নতুন নোট বিতরণের প্রচলিত রেওয়াজ থেকে সরে আসছে। বরং সারা বছর ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে নতুন নোট সরবরাহ করা হবে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)