শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২


যুদ্ধের মাঝেই ইরানিদের প্রতি যে আহ্বান জানালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬:২৫

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নিজেদের সরকার দখলে নিতে ইরানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ইরানে চলমান তাদের ব্যাপক আক্রমণকে কাজে লাগিয়ে যেন তারা দেশের ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করে।

ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমরা শেষ করব, নিজেদের সরকার দখলে নিন। এটি আপনাদের নেওয়ার জন্য থাকবে। বহু প্রজন্মে এটাই সম্ভবত আপনাদের একমাত্র সুযোগ।’

ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা যদি অস্ত্র ফেলে না দেয়, তাহলে ‘নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি’ হতে হবে। তবে অস্ত্র সমর্পণ করলে তাদের ‘মুক্তি’ দেওয়া হবে।’

তেহরান ও আরও কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করবে।’ ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তোমাদের মুক্তির সময় নিকটে।’

এদিকে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া বিবৃতিতে ট্রাম্পের দাবি, ‘ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে এবং দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে, যা এখন ইউরোপে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্রদের, বিদেশে অবস্থানরত আমাদের সেনাদের হুমকির মুখে ফেলতে পারে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডেও পৌঁছাতে পারে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘বড়’ অভিযান পরিচালনা করছে, যার লক্ষ্য হলো এই ‘অত্যন্ত দুষ্টু ও উগ্র স্বৈরশাসন’কে আমেরিকাকে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত রাখা।’

এর আগে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অথচ শনিবার ভোর থেকেই ঘুমন্ত ইরানিদের ওপর একযোগে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

পারমাণিবক আলোচনায় ইরানের অবস্থানের বিষয়ে সন্তুষ্ট নন ট্রাম্প। তিনি বলেন ‘আমাদের যা প্রয়োজন, ইরান তা দিতে রাজি নয়।’ ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারবে না।’

এ নিয়ে গত সপ্তাহের শুরুতে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষই জানায়, একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কয়েকদিন না যেতেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার মুখে ইরান।

এই অবস্থায় দেশটির হাসপাতালগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং আহতদের সংখ্যা চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণের পরে ঘোষণা করা হবে।

ইরানের বিভিন্ন শহরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে ইরানি সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে।

তেহরানসহ অন্তত পাঁচটি শহরে হামলার খবরের সঙ্গে সঙ্গে আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সংবাদ সংস্থাটি এ খবর নিশ্চিত করেছে। তবে তারা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে।

এই যুদ্ধের জেরে ইরান তার আকাসসীমা আগেই বন্ধ করে দিয়েছে। একই পদক্ষেপ নিয়েছে ইরাকও। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের পরিবহন মন্ত্রণালয় শনিবার ইরানের ইসরায়েলি হামলার পর তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।

ইরান ও ইসরায়েলও তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। শনিবার সকালে ইরানে হামলার পরপরই ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা সব বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ করে দেয়। এরপর ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে যোগসূত্র থাকা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ইরানের আকাশসীমা বন্ধের খবর দেয়।

চলতি জানুয়ারির শুরুতে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অভিযানে অন্তত ৬,৪৮০ জন নিহত হয়েছে—মা নবাধিকার কর্মীদের এমন দাবির পর ট্রাম্প ইরানে বোমা হামলার হুমকি দেন।

সে সময় তিনি সতর্ক করেছিলেন, দায়ীদের ‘বড় মূল্য দিতে হবে’ এবং বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, দ্রুত তাদের সহায়তা করা হবে।

তবে এর কয়েক দিন পর ট্রাম্প জানান, ইরান সরকারের কাছ থেকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে, ‘হত্যা বন্ধ হয়েছে’ এবং তার দৃষ্টি সরে যায় দেশের পরমাণু কর্মসূচির দিকে— যা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, হামলার বদলা হিসেবে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে পাল্টা হামলা অিব্যাহত রেখেছে ইরানও। এছাড়া যেসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ঘাঁটি রয়েছে, সেসব জায়গায়ও হামলা শুরু করেছে মুসলিম দেশটি।

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৫:০৮ - ৬:১৮ ভোর
যোহর ১২:১১ - ৪:১১ দুপুর
আছর ৪:২১ - ৫:৫৫ বিকেল
মাগরিব ৬:০০ - ৭:১০ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৫ - ৫:০৩ রাত

শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬