সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করলে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:১ জুন ২০২৬, ১৭:১৪

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নেবে না— এই শর্তে রাজি হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ পাবে ইরান। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি পৃথক চুক্তির কাজ চলছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত ইরানের অর্থনীতি এবং সড়ক, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প, পৌর স্থাপনাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত খাতে ব্যয় করা হবে ক্ষতিপূরণের এই অর্থ। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রস্তাবিত ক্ষতিপূরণ চুক্তির খসড়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামের একটি তহবিলের উল্লেখ রয়েছে। সেই তহবিলে জমা থাকবে ক্ষতিপূরণের এই ৩০ হাজার কোটি ডলার। এ অর্থের যোগান আসবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে।

ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দু’দশক ধরে টানাপোড়েন চলছে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে। ইরান অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত দু’দশকে একের পর এক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইরানের অর্থনীতিকে কার্যত বিধ্বস্ত করার পর ২০২৫ সালের জুন মাসের মাঝামাঝি প্রথমবারের মতো দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। সেবার ১২ দিন ধরে চলেছিল সংঘাত।

একই ইস্যুতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফের ইরানে অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী এবং টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এখনও সেই বিরতি চলছে।

সম্প্রতি ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং একটি চুড়ান্ত শান্তি ও সমঝোতা চুক্তির খসড়া তৈরির জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বৃদ্ধি করা নিয়ে আলোচনা চলছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে। যদি এ ইস্যুটি চূড়ান্ত হয়, তাহলে বর্ধিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদকালে দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের এক তৃতীয়াংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে।

তাছাড়া ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়ামের যে মজুত রয়েছে, সেটিও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বিষয়। কারণ বিশুদ্ধতার মান যদি ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তাহলে এই ইউরেনিয়াম দিয়ে অনায়াসে পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে পারবে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মকর্তারা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানিয়েছেন, যদি ইরান কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়, হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় এবং ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তরে রাজি হয়— কেবল তখনই ক্ষতিপূরণের অর্থ নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হবে।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৫ - ৫:০৬ ভোর
যোহর ১১:৫৬ - ৪:২৬ দুপুর
আছর ৪:৩৬ - ৬:৩৬ বিকেল
মাগরিব ৬:৪১ - ৮:০৩ সন্ধ্যা
এশা ৮:০৮ - ৩:৪০ রাত

সোমবার ১ জুন ২০২৬