মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
দেশকে অস্থিতিশীল করে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অভিযোগে রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জনতা পার্টি বাংলাদেশের মহাসচিব শওকত মাহমুদকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এদিন শওকত মাহমুদকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিদর্শক মো. আখতার মোরশেদ তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আবেদন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। ওই বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটোরিয়ামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের কার্যক্রম পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, তারা প্রকৃতপক্ষে দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের উদ্দেশ্যে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান ও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। মামলার এজাহার নামীয় ১৬ জন আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন ব্যক্তি ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। গোয়েন্দা রমনা বিভাগের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আসামিরা ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারে সমবেত হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। আসামি শওকত মাহমুদ উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তিনি তার দলীয় লোকজনসহ একত্রিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারমূলক সভা করেছেন বলে জানা যায়।
এজন্য মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শওকত মাহমুদকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বন্ধের লক্ষ্যে গত বছরের ৫ অগাস্ট ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত বছরের ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এর মধ্যে মামলার বাদী শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বেতারের মাধ্যমে সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়মে যাওয়ার জন্য নির্দেশনা পান। পনেরো মিনিট পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন বেশকিছু লোক রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং একজন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। বাদী বক্তব্যরত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেন এবং উনাকে চিনতে পারেন উনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।
এসময় উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারেন, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (৭৫) ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারকে পুঁজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদের ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিল। তিনিসহ অজ্ঞাতনামা ৭০/৮০ জন পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছেন।
গত বছরের ২৮ অগাস্ট ডিআরইউতে মঞ্চ ৭১ এর গোল টেবিল অনুষ্ঠান থেকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরদিন ২৯ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় পুলিশের উপ-পরিদর্শক আমিরুল ইসলামের দায়ের করা সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামিরা হলেন—লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন, মঞ্জুরুল আলম, কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল, গোলাম মোস্তফা, মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু, মো. জাকির হোসেন, মো. তৌছিফুল বারী খাঁন, মো. আমির হোসেন সুমন, মো. আল আমিন, মো. নাজমুল আহসান, সৈয়দ শাহেদ হাসান, মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার, দেওয়ান মোহম্মদ আলী ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)