বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর বনশ্রী-রামপুরা এলাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আহতদের রক্তাক্ত শরীরে সড়কে ছটফট করতে দেখেছেন বলে দাবি করেছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। পরে কাছের দুটি হাসপাতালে গিয়ে কাপড়ে ঢাকা কয়েকটি মরদেহ দেখতে পান বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কথা উল্লেখ করা হয়। রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সপ্তম সাক্ষী হিসেবে তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন ট্রাইব্যুনাল।
৪৮ বছর বয়সী এই সাক্ষী একজন ব্যবসায়ী। রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন বনশ্রী এলাকায় তার বসবাস। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই (শুক্রবার) জুমার নামাজ শেষে বাসায় খাওয়া-দাওয়ার পর বাইরে গুলি-সাউন্ড গ্রেনেডের শব্দ শুনতে পান তিনি। আন্দোলনকারীদের ছোটাছুটি দেখে তিনিও বনশ্রী এফ-জি এভিনিউ হয়ে প্রধান সড়কে যান।
সাক্ষী বলেন, প্রধান সড়কে গিয়ে দেখি রামপুরা সেতুর দিক থেকে পুলিশ-বিজিবির একটি দল থানার দিকে আসছিল। তারা ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে সাউন্ড গ্রেনেড মারছিলেন আর গুলি করছিলেন। এভাবে জি ব্লকের সামনে আসতেই আমি গলির ভেতরে চলে যাই। ৩০-৪০ মিনিট পর পুনরায় রামপুরা সেতুতে আসেন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা। তবে এফ-জি এভিনিউয়ের কাছে মূল সড়কে কলাগাছ দিয়ে পথ আটকে দেন ছাত্র-জনতা। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে সড়ক থেকে এসব সরাচ্ছিল পুলিশ। আর ছাত্র-জনতার উদ্দেশ্যে গুলি করতে করতে এভিনিউয়ের দিকে অগ্রসর হন বিজিবির সাত-আটজন সদস্য। তারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে দুদিকে গুলি চালাতে থাকেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, ৩০-৪০ মিনিট এভাবেই অবস্থান নেয় পুলিশ-বিজিবি। গুলির সময় আমি এফ ব্লকের একটি নির্মাণাধীন বাড়ির পেছনে আশ্রয় নেই। তবে তাদের গুলিতে বেশ কয়েকজন আহত হন। রক্তাক্ত শরীরে সড়কেই ছটফট করেছিলেন তারা। পরে ফরায়েজি ও অ্যাডভান্স হাসপাতালে গিয়ে ২৫-৩০ জন গুলিবিদ্ধ লোকের দেখা মেলে। এর মধ্যে সাত-আটজন নিহত ছিল। তাদের গোটা শরীর কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল।
সাক্ষী জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি, বনশ্রী এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়া বিজিবির রেদোয়ান, মেজর রাফাত, এডিসি রাশেদুল, ওসি মশিউরের নেতৃত্বে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পরে জানতে পারেন তিনি। এজন্য তাদের বিচার দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালে।
এ মামলায় মোট আসামি চারজন। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত বিন আলম।
পলাতকরা হলেন, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।