সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২


তথ্য কমিশন দ্রুত গঠন ও আইন আরও সংশোধন দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৮ মার্চ ২০২৬, ১৬:০৫

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

তথ্য কমিশনে প্রধান তথ্য কমিশনারসহ কমিশনারদের দ্রুত নিয়োগ এবং তথ্য অধিকার আইন-২০০৯ আরও সংশোধনের দাবি জানিয়েছে তথ্য অধিকার ফোরাম।

রোববার (৮ মার্চ) টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এবং তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনাম; সুশানের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার; ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান; মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভের (এমআরডিআই) নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান।

সংগঠনটি বলেছে, তথ্য কমিশনের প্রধান তথ্য কমিশনার ও কমিশনারদের অনুপস্থিতিতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কমিশনের কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর ও স্থবির হয়ে আছে। এতে দেশে তথ্য অধিকার আইনের ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হচ্ছ। তথ্য অধিকার আইন জনগণকে 'রাষ্ট্রের মালিক' হিসেবে ক্ষমতা প্রয়োগের পথ তৈরি করে দিয়েছে। এই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে, দুর্নীতি কমবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হবে। তবে আইনটি পাসের দেড় দশক পরও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে।

তাদের মতে, তথ্য কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা, কমিশনারদের পদমর্যাদা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও দক্ষতা এবং কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার সীমাবদ্ধতা এর বড় কারণ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির জারি করা তথ্য অধিকার সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এ আইনের তিনটি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যের সংজ্ঞা, কর্তৃপক্ষের স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ এবং জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। এ পরিবর্তন যথেষ্ট নয়।

সংগঠনটি বলছে, ২০২৫ সালের ৬ মার্চ এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিকার আইনের ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছিল এবং একইদিন তা তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পাঠানো হয়। পরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় মতামত চাইলে তাও দেয় ফোরাম।

সংশোধনীর বিষয় উল্লেখ করে তথ্য অধিকার ফোরাম বলছে, সবচেয়ে জরুরি সংশোধনীর মধ্যে আছে তথ্যের সংজ্ঞায় দাপ্তরিক নোট শিট অন্তর্ভুক্ত করা, কর্তৃপক্ষের আওতা বাড়িয়ে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, সরকারি অংশীদারিত্ব থাকা বেসরকারি সংস্থা এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে অন্তর্ভুক্ত করা। এছাড়া তথ্য কমিশনের স্বাধীনতা বাড়ানো, প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের পদমর্যাদা ও সুবিধা বাড়ানো, পদশূন্য হলে ৪৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ নিশ্চিত করা, আপিল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি।

তথ্যের অনুরোধ নিষ্পত্তি, তথ্য সংরক্ষণ, ওয়েবসাইটে স্বতঃপ্রণোদিত প্রকাশ, বার্ষিক প্রতিবেদন, ক্রয়সংক্রান্ত তথ্য, বাজেট, অডিট রিপোর্ট, চুক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রকাশের মতো বিষয়গুলোও আইনে আরও স্পষ্ট করার বিষয়টি দাবি জানিয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী তথ্য কমিশনে প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারদের দ্রুত নিয়োগ দেওয়া জরুরি। তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার অব্যাহত রাখতে এটি অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং অন্যান্য দেশের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য অধিকার আইনের ৭ ধারাসহ বিভিন্ন ধারা সংশোধন করা দরকার।

পাশাপাশি সরকারি গোপনীয়তা আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মতো প্রতিবন্ধক আইনের প্রাসঙ্গিক ধারাও বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:৫৯ - ৬:০৯ ভোর
যোহর ১২:০৯ - ৪:১৫ দুপুর
আছর ৪:২৫ - ৫:৫৯ বিকেল
মাগরিব ৬:০৪ - ৭:১৪ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৯ - ৪:৫৪ রাত

সোমবার ৯ মার্চ ২০২৬