সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২


ঢাকায় ইরানি রাষ্ট্রদূত

আটকা পড়া বাংলাদেশি জাহাজ দ্রুত হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২২

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেছেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশের কিছু জাহাজও সেখানে আটকা পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করব এবং জাহাজগুলো ছাড়ার ব্যবস্থা করবো, ইনশাআল্লাহ। অতি দ্রুত জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে পারবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারেরসঙ্গে আলাপ করে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ : মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধাপরাধের বিচার ও জবাবদিহিতা দাবি’ শীর্ষক এক শোক সমাবেশ ও যুদ্ধাপরাধ বিরোধী প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইরানি রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। বাংলাদেশকে আমরা ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবেই মনে করি। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী বলেন, যুদ্ধবিরতির আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ওমানসহ যারা আমাদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও ধন্যবাদ জানাই।

তিনি বলেন, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসলামাবাদে মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা হলে তবেই ইরান তাতে অংশ নেবে, অন্যথায় নয়। আমরা আমেরিকাকে এই বার্তা দিয়েছি যে, তারা যদি মর্যাদার ভিত্তিতে আলোচনা করে তবেই আমরা আলোচনা করব। আর যতদিন আলোচনার জন্য যুদ্ধবিরতির সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, ততদিন আমরা কোনো হামলা করব না। তবে আমেরিকা যদি যুদ্ধবিরতি না মেনে হামলা চালায়, তাহলে ইরানও পাল্টা হামলা করতে বাধ্য হবে।

ইসলামাবাদ আলোচনার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এর আগেও আলোচনা করেছিলাম, কিন্তু তার মধ্যেই আমেরিকা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা এবারও নিশ্চিত ছিলাম যে আমেরিকা আসলে শান্তি বা শান্তি চুক্তির জন্য আসেনি। তারা মূলত বিশ্বকে দেখাতে চেয়েছে যে তারা শান্তি চায় আর ইরান যুদ্ধ চায়। আসলে আমেরিকা কখনো শান্তি চায় না। তারা ইরানের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে এই কারণে যে, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হতে না পারে। আমেরিকার ভাষ্য হলো, বিশ্বের সব দেশ পারমাণবিক শক্তিধর হতে পারবে, কিন্তু ইরান পারবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন সফল হয়নি জানিয়ে রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমেরিকা মূলত ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে হামলা চালিয়েছিল। তারা ভেবেছিল হামলা চালালে ইরান-বিরোধীরা রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকারের পতন হবে। কিন্তু দেখা গেল ইরানের জনগণ ঠিকই রাস্তায় নেমেছে, তবে তা সরকারের পক্ষে এবং আমেরিকার বিরুদ্ধে। আমেরিকার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। তারা চেয়েছিল হরমুজ প্রণালী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে চালাবে, কিন্তু সেখানেও তারা ব্যর্থ হয়েছে।

ইরানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালনের জন্য রাষ্ট্রদূত বিপ্লবী ছাত্র পরিষদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে। তারা হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুলে হামলা চালিয়েছে। হাসপাতালে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে এবং স্কুলে হামলা চালিয়ে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। ইরান এসব হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। ইরান কখনো যুদ্ধ চায় না, কারণ যুদ্ধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে আমেরিকা ও ইসরায়েল চায় না যে যুদ্ধ বন্ধ হোক।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল আজ ইরানের শিশুদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে। ইরানের স্কুলে বোমা হামলা চালিয়ে শিশুদের হত্যা করা বিশ্ববিবেকের ওপর চপেটাঘাত। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই আবেগঘন প্রতিবাদী কর্মসূচিতে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শহীদ ইরানি শিশুদের প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবির প্রদর্শনী এবং যুদ্ধবিরোধী স্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। এ সময় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ইরানি শিশুদের রক্ষায় মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ে শামিল হতে প্রতীকী রক্তভেজা হাতের ছাপ দেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:২৪ - ৫:৩৬ ভোর
যোহর ১১:৫৯ - ৪:২০ দুপুর
আছর ৪:৩০ - ৬:১৩ বিকেল
মাগরিব ৬:১৮ - ৭:৩০ সন্ধ্যা
এশা ৭:৩৫ - ৪:১৯ রাত

সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬