বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী দলগুলো ৬টি আসনের বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন পেয়েছে। সেই হিসাবে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপির জোট পাচ্ছে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট পাচ্ছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবেন একটি আসন। প্রশ্ন হচ্ছে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও কি সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতো একই বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান?
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য একই। সংরক্ষিত এবং সরাসরি ভোটে নির্বাচিতদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যোগ্যতা ও সুযোগ-সুবিধা একই। ‘এমপি তো এমপিই’- সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরাও সরাসরি নির্বাচিত এমপিদের মতো সব সুবিধা পাবেন।
কী কী সুবিধা পান সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা
এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো। সংরক্ষিত আসনের ৫০ নারী সংসদ সদস্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বেতন-ভাতা ও নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে 'মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩' বা 'সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিক ও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩' অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে সংশোধন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত ৫৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের পাশাপাশি সংসদ ভবনে একটি আলিশান ফ্ল্যাট, পরিবহন, অফিস, চিকিৎসা, ভ্রমণ, শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি, বিমা ও নানা ধরনের ভাতা পেয়ে থাকেন।
মাসিক ভাতা ও সুবিধা
একজন নারী সংসদ সদস্য প্রতি মাসে ৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা পান। এছাড়া মাসিক পাঁচ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়।
নারী সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহন ভাতা পান। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য আরও কিছু ভাতা পান সংসদ সদস্যরা। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং বিবিধ ব্যয় ভাতা ৬ হাজার টাকা, যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত।
সংসদ সদস্যদের জন্য বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য কর ছাড়াই। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা শুল্ক ও করমুক্ত গাড়ি আমদানি করবেন না বলে জানিয়েছেন।
ভ্রমণ ও দৈনিক ভাতা
ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভা ও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড়গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও দেওয়া হয়।
সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে সদস্যরা উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে পান।
চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে ১০ লাখ টাকার বিমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বিমা কার্যকর হয়।
এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে।
টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। এই খাতে মাসিক সাত হাজার ৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ দেওয়া হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)