বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রতীকী ছবি
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে পাঁচ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। ইতোমধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলেও বন্যা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এদের মধ্যে মনু নদী ছাড়া বাকি তিনটিই নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপৎসীমার ৮২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক দিন ধরেই দেশের নানা প্রান্তে বৃষ্টিপাত বাড়ছে। গতকাল রাত থেকে আজ সকাল পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে; ১৬১ মিলিমিটার। এ ছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদফতর দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
রাজধানী ঢাকায়ও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা ইতোমধ্যে নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)