মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশ নিজস্ব স্যাটেলাইট পরিচালনায় বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ২০১৮ সালে। সেই স্যাটেলাইট এখন শুধু কার্যকরই নয়, লাভজনকও। এ পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মুনাফা এসেছে। সরকার এখন দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা নিম্ন কক্ষপথে (লো আর্থ অরবিট) স্থাপন করা হবে, যাতে আরও স্পষ্ট ছবি ও তথ্য পাওয়া যায়।
আজ সোমবার সন্ধ্যায় ‘ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি)’ সদর দপ্তরের কাউন্সিল হলে ‘স্যাটেলাইট ড্রোনস অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব স্পেস টেকনোলজি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার মহাকাশ প্রযুক্তিকে বিলাসিতা হিসেবে দেখছে না বরং জাতীয় উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। যোগাযোগ, সম্প্রচার, রিমোট সেন্সিং ও তথ্য সংগ্রহে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে মানুষের জীবন বদলে দিতে শুরু করেছে, বিশেষ করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি ও মৎস্য খাতে।
তিনি আরও জানান, উপকূলীয় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আগাম বার্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। গভীর সমুদ্রে থাকা মাছ ধরার নৌকাগুলো যাতে ঘূর্ণিঝড় বা বৈরী আবহাওয়ার আগে সতর্কবার্তা পায়, সে বিষয়ে কাজ করছে সরকার। প্রতিবছর সমুদ্রে দুর্ঘটনায় বহু জেলে প্রাণ হারান। স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
কৃষি খাতেও স্যাটেলাইটের ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে বন্যা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি ও কৃষিজমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো এলাকায় কী ধরনের ফসল ভালো হয়, কোথায় ক্ষতি হচ্ছে এসব তথ্যও দ্রুত পাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
ড্রোন প্রযুক্তি বিষয়ে তিনি বলেন, ড্রোন এখন আর শুধু ছবি তোলার যন্ত্র নয়, এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত নজরদারি, উপকূলীয় পর্যবেক্ষণ ও কৃষি ব্যবস্থাপনার কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। ড্রোন ও স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানো হবে।
ফকির মাহবুব আনাম আরও জানান, সরকার ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চ কক্ষপথের পরিবর্তে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় নতুন স্যাটেলাইট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। এতে দেশের বিভিন্ন এলাকার আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যাবে এবং তথ্য সংগ্রহ হবে দ্রুততর। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্পেস ডেটা, গ্রাউন্ড স্টেশন ডিজাইন, স্যাটেলাইট অ্যাপ্লিকেশন ও ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ বাড়াতে হবে। শিক্ষার্থী স্যাটেলাইট প্রকল্প, সার্টিফিকেশন কর্মসূচি এবং স্পেসটেক স্টার্ট-আপ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান মন্ত্রী।