সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী সাহরুয়ার আহমেদ ইমনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ২২ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে হত্যাকারী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ১২ জুন ওরোক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন ইমন। তিনি, কোফিনু এলাকার একটি কারখানায় প্রথম কর্মদিবসে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলে পরিচিতদের জানিয়েছিলেন। ওই রাতেই তিনি, এক বন্ধুর কাছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একটি লোকেশন পাঠান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া যুবক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। সে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং নিহতের ব্যক্তিগত সামগ্রী কোথায় ফেলে রাখা হয়েছিল, তাও দেখিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইমন ও অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়েছিল একটি বাসে। অভিযুক্তের দাবি, ওই সময় ইমন তাকে অপমান করেছিলেন।
তবে পুলিশ মনে করছে, মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থ আদায়। ঘটনার পাঁচদিন পর পরিকল্পনা করে ইমনকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ওরোক্লিনি এলাকা থেকে গাড়িতে তুলে কোফিনু এলাকায় নিয়ে যায় অভিযুক্ত যুবক। সেখানে তাকে হত্যা করে একটি অগভীর কবর খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেয়।
পুলিশের দাবি, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পরই হত্যাকারী যুবক ইমনের ফোন দিয়েই তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করে। এর মাধ্যমে অপহরণের নাটক সাজিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এদিকে, উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনধরা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমনকে হত্যা করা হয়।
এছাড়া, মরদেহ উদ্ধারের স্থান ঘিরে ফরেনসিক তদন্ত চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা বাখরনগর এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে।