বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু মশা নিধনে গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম তদারকি ও পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত জাতীয় টাস্ক ফোর্স কমিটি ঢাকা শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও স্থাপনায় নিয়মিত অভিযান এবং মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এই কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চলবে।
বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ১০৭ ও ১১২ নম্বর সড়কের বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস অভিযান পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্ক ফোর্স কমিটির উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। তিনি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে না ফেলে বাড়ির বারান্দা, ছাদ, ছাদবাগান, টব এবং নিচতলার আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুলশানে অভিযান, একাধিক বাসায় মিলল এডিসের লার্ভা
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এডিস মশার বিস্তার রোধে নগরবাসীর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাসাবাড়ি ও ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণের মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
অভিযান চলাকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আক্তার নেলী গুলশানের ১০৭ নম্বর সড়কের চয়েজ রেস্টুরেন্টের মালিককে এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে দুই মাসের কারাদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়।
এ সময় অভিযানে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং স্টিকার লাগানোর কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।