মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ছয় মাসের জন্য শুল্ক-কর ছাড় দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নিম্নস্তরের সিগারেটের প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে বিনিয়োগ সুরক্ষা ও উন্নয়নসংক্রান্ত একটি চুক্তির খসড়াও অনুমোদন পেয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ২০তম বৈঠকে অর্থ ও বাণিজ্যসংক্রান্ত এ তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ১৮০ দিন (ছয় মাস) পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশে ১ শতাংশ অতিরিক্ত কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (মূসক), আগাম কর (এটি) এবং অগ্রিম আয়কর (এআইটি) থেকে পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া হবে।সরকারের মতে, এ সুবিধার ফলে দ্রুত সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমবে, শিল্প উৎপাদন সচল থাকবে এবং উৎপাদন ব্যয় ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি কমে বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে নিম্নস্তরের সিগারেটের মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর আওতায় প্রতি ১০ শলাকা নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬২ টাকার পরিবর্তে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সিগারেটের মূল্য নির্ধারণ এবং স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সংশোধনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে ‘প্রমোশন অ্যান্ড প্রোটেকশন অব ইনভেস্টমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক চুক্তির খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
১০ বছর মেয়াদি এ চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে সরকার আশা করছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার তিন বছর পর উভয় পক্ষ চাইলে এর সংশোধনের সুযোগ পাবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের ষষ্ঠ বৃহত্তম উৎস হংকং। নতুন এ চুক্তির ফলে পোশাক ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ বাড়বে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পায়ন আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছে সরকার।