মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
সংশয় নেই, বাংলা নববর্ষ এ জনপদের লোকজ সংস্কৃতির ফসল। নগরায়নের সঙ্গে সঙ্গে তার একটি নাগরিক আদলও দাঁড়িয়ে গেছে বটে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে সেই স্রোতধারায় লোকজ সংস্কৃতি সমন্বিত নয়। তার মানে এ-ও নয়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সেই নাগরিক আদল বাঙালি মধ্যবিত্তের সাময়িক আনন্দউল্লাস।
বাঙালি মধ্যবিত্ত সমাজ এখন আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত হয়েছে, মধ্যবিত্তের শ্রেণি মননে যে দোদুল্যমানতা গত শতাব্দীর আশির দশকে এমনকি নব্বইয়ের দশকেও ছিল—তা এখন অনেকাংশেই উধাও হয়ে গেছে। মধ্যবিত্ত এখন বিপ্লবের স্বপ্ন খুব কমই দেখে; নতুন এই মধ্যবিত্ত মূলত বিত্তমুখী, উচ্চবিত্তমুখী। কিন্তু তার পরও লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়ে গেছে, সেই নিবিড়তা অস্বীকার করার মতো শক্তি এখনও সে অর্জন করতে পারেনি আর পারবেও না।
কারণ সমাজকে, সামাজিক শ্রেণিসমূহকে সমন্বিত রাখার বিষয়টি সংস্কৃতির হাত ধরেই ঘটে থাকে। সমাজ-সংস্কৃতিতে যেন ভারসাম্যহীনতা না আসে, অস্থিতিশীলতা না দেখা দেয়, সে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত হয় এ কারণেই যে, আমরা শেষ পর্যন্ত এই লোক সংস্কৃতির সঙ্গেই জড়িয়ে থাকি।
সঙ্গতকারণেই, দশজনের বিশ কথার মধ্যে এখনো আমাদের আশ্বস্ত করে এই পহেলা বৈশাখ। এই দিনটি আমাদের মধ্যে উপস্থিত হয় অপরিমেয় শক্তি নিয়ে, সম্পর্ক স্থাপন করে যেমন সামাজিক শ্রেণিসমূহের মধ্যে, তেমনি নগর ও গ্রামের ভেতর। আমরা উপলব্ধি করি, বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতি বিনিময় ও মিথস্ক্রিয়ার স্রোত প্রবল হয়ে ওঠার পরও পহেলা বৈশাখ অপরিমেয় এক শক্তি নিয়ে লোকজ উপাদানসমূহ ধরে রেখেছে এবং আধুনিক মানুষকেও সাংস্কৃতিকভাবে আকৃষ্ট করছে প্রবলভাবে। বড় বেশি অবিভাজ্য বাংলা নববর্ষ আর এই লোকজ সংস্কৃতি; প্রভাবকও তারা একে অপরের।
এক.
বাংলা নববর্ষের কথা উঠলে অনিবার্যভাবেই আসে বাঙালি সংস্কৃতির প্রসঙ্গ; তেমনি আসে বাঙালি জাতিসত্তা আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা; আসে বাঙালি জাতিসত্তার পাশাপাশি এই ভূখণ্ডে অবস্থানরত অনেক সংখ্যালঘু জাতিসত্তার কথাও। একাত্তরে বাঙালি ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল, বাঙালি জাতীয়তাবাদের স্ফুরণ ঘটেছিল, তার সংস্কৃতি চর্চার স্রোত সৃষ্টি হয়েছিল।
এখন যে অন্যান্য জাতিসত্তাগুলোর বিকাশপ্রসঙ্গ আসছে, আসছে অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গ—স্বীকার করতেই হবে, তার সঙ্গে এই বাঙালি সংস্কৃতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশেরও গভীর এক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে বৈশাখের প্রথম দিনে যখন নববর্ষ উদযাপন করা হয়, ঠিক একই সময় এ দেশে সমতল ও পাহাড়ের অনেক সংখ্যালঘু আদিবাসী জাতিসত্তার মানুষও তাদের নববর্ষ পালন করে থাকে।
বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের নিজস্ব নববর্ষের এমন উদযাপনের ঘটনা এখানে অনেক আগে থেকেই স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে; কারণ এ ভূখণ্ডের নববর্ষ মূলত অসাম্প্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সর্বজনীন উৎসবমুখরতার আধার। যদি বিভিন্ন মাজারের ওপর আক্রমণ, পীরহত্যা, বাউলদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা আমাদের এ-ও মনে করিয়ে দিচ্ছে, একটি অপশক্তি ক্রমশই তার কালো থাবা বসাচ্ছে আমাদের সহজাত চেতনাবোধের ওপর।
দুই.
বাংলা নববর্ষ, এককথায় বলতে পারি, অন্ত্যজ বাঙালির সংস্কৃতি। একদিনে নয়—এ নববর্ষ নিজেকে তৈরি করেছে বহুদিন ধরে। সাধারণভাবে আমরা বলে থাকি বটে, সম্রাট আকবর প্রচলন ঘটান এ নববর্ষের, তবে গবেষক-একাডেমিশিয়ানরা এ ব্যাপারে একেবারে নিঃসংশয় এখনো হতে পারেননি। তবে যার বা যাদের সময় থেকেই এর প্রচলন ঘটে থাকুক না কেন, এর সামাজিক প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্র সৃষ্টি ও পরিপুষ্ট হয়েছে আগে ও পরের অনেক সময় ধরে।
সম্রাট আকবর এর প্রচলন করেন, এ কথা যখন বলি, তখন আসলে আমরা বুঝিয়ে থাকি সাম্রাজ্যের সর্বোচ্চ সোপান থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা নববর্ষ অনুমোদিত হওয়ার কথা, সামন্তবাদী সাম্রাজ্যের কাজকর্মে এবং রাজা-বাদশাহ-সামন্তদের বৈধ লুটপাটের প্রক্রিয়ায় (যেমন, খাজনা আদায়) এর গুরুত্ব তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু মূলত এসবের অনেক আগে থেকেই, সামাজিক ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার গুরুত্ব তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলা নববর্ষ প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে শুরু করে।
বাঙালি তার পঞ্জিকাকে কী করে ব্যবহার করত, সেই পঞ্জিকা রাষ্ট্রশক্তির কাছে কী করে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল, এরকম বহু প্রশ্নের অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়ে আমরা হয়তো কোনো একদিন এই সত্যের কাছাকাছি পৌঁছতে পারব যে, বাংলা নববর্ষকে কতটা পথ পাড়ি দিতে হয়েছে।
ইতিহাস বলে, সুলতানি ও নবাবী আমলে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো হিজরি সাল অনুসারে। রাষ্ট্রভাষা ছিল ফারসি। তার পর এলো ব্রিটিশ শাসন—যখন তারা তাদের প্রয়োজনে বেছে নিলো খ্রিস্টিয় পঞ্জিকা। ব্রিটিশ শাসনামলের প্রথম দিকেও ফারসি ভাষাতেই চলত, রাজকার্য। তবে একসময় সেখানেও আবির্ভূত হলো ইংরেজি ভাষা। কিন্তু কৃষিভিত্তিক বাংলার সামাজিকতা থেকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রাসঙ্গিকভাবেই জড়িয়ে আছে বাংলা পঞ্জিকা।
মুখে মুখে এ পঞ্জিকা ব্যবহৃত হয়েছে—মুখে মুখেই তা প্রজন্মের পর প্রজন্ম, বছরের পর বছর টিকে আছে। অন্ত্যজ বাঙালি তার পঞ্জিকাকে অনুসরণ করে পহেলা বৈশাখের দিন কিংবা এর আগে-পরে প্রাণের আবেগে মেতে উঠত হালখাতার উৎসবে; ষাঁড়ের লড়াই, মোরগযুদ্ধ, গরুর দৌড়, লাঠি খেলার মতো নানা আয়োজনে।
এ কেবল আনন্দ উৎসবই ছিল না, ছিল সামাজিকতার প্রকাশ, ছিল জয়-পরাজয়ের পারস্পারিক সহাবস্থান নির্মাণের আয়োজন, ছিল সাংস্কৃতিক সহবস্থান প্রতিষ্ঠার উৎসব। নিশ্চয়ই এর সঙ্গে অর্থনৈতিকতারও যোগ ছিল কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে এটি ছিল সংস্কৃতি, এক আনুকুল্যবিহীন সংস্কৃতি—যা টিকে ছিল বছরের পর বছর। আর ছিলই বা বলি কেন—এখনো আছে, থাকবে ভবিষ্যতেও।
তিন.
তবে এটিও বলতে হয়, বিষয়টি নতুন এক দিকে মোড় নিলো এবং ভিন্ন এক রাজনৈতিক মাত্রাও পেলো—যখন পাকিস্তান নামের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরপরই বাংলা ভাষাকে সমাজ-রাষ্ট্রের আঙিনা থেকে দূর করে দেওয়ার চেষ্টা চললো, চেষ্টা চললো বাঙালি সংস্কৃতিকে বিজাতীয় বিধর্মী সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার।
তখন বাংলার নববর্ষ সবাইকে শোনালো নতুন এক জাগরণের গান। বাংলা নববর্ষ হয়ে উঠলো সংঘবদ্ধতার প্রেরণা। হয়ে উঠল সব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ধর্মকে অতিক্রম করে সেতুবন্ধন রচনার পাটাতন। নববর্ষ হয়ে উঠলো বাঙালির সাংস্কৃতিক বিকাশের অনুঘটক, বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রেরণা।
আজকের বাংলাদেশ ও আজকের আমরা দাঁড়িয়ে আছি সেই পাটাতনের ওপর; আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে সেই সংস্কৃতি ও জাতীয়তার চেতনার জমিনে। অস্বীকার করার পথ নেই, মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিই ছিল প্রথম সারিতে। কিন্তু সত্য হয়েও তা পূর্ণ সত্য নয়, কারণ বাঙালির যুদ্ধ এখানকার আদিবাসী আর অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিসত্তার মানুষও অংশ নিয়েছে, এ যুদ্ধ তাদেরও উদ্বুদ্ধ করেছে মুক্ত হতে।
তাই দেখা গেছে তারাও হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের অংশীদার, আর তাদের নববর্ষের উদযাপনও ক্রমশ সারা বাংলাদেশে দ্রষ্টব্য হয়ে উঠেছে। তাই দেখা যায়, এখন এ দেশের রাজধানীতেও গুরুত্বের সঙ্গে উদযাপন করা হয় আদিবাসীদের নববর্ষের বিঝু—বৈসু—সাংগ্রাই—বিষু মেলা।
লেখা হয়তো ভুল হবে না, রাজাদের রাজদরবারে খাজনা আদায়ের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার আগে আমাদের অন্ত্যজ বাঙালি পূর্ব পুরুষরাও হয়তো একইভাবে নববর্ষ উদযাপন করেছেন—কেননা সামাজিকভাবে তা স্বীকৃত হয়েছিল অনেক আগেই।
এখন বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, বাংলার নববর্ষও রাষ্ট্রের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। অন্য কথায় বলতে গেলে, রাষ্ট্র তাকে খানিকটা গ্রহণযোগ্যতা দিতে বাধ্য হয়েছে। বাংলা নববর্ষ নিজেই তা আদায় করে নিয়েছে। পাকিস্তানি বুর্জোয়া ও সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার পথে বাঙালিকে এই বাংলা নববর্ষ দিয়েছে সর্বজনীন এক উৎসবের আস্বাদ, দিয়েছে অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক দিনযাপনের আস্বাদ—আর সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছে তা হলো, এ জনপদের মানুষের মধ্যে সে তৈরি করেছে ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত।
তৈরি করেছে, মজবুতও করেছে—একদিনের সর্বজনীন উৎসব আর অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক দিনযাপনের আস্বাদ মানুষ পেতে চেয়েছে পুরো বছর। বাংলা নববর্ষের মতো উৎসবগুলো যেমন বাঙালিকে মুক্ত করেছে হিন্দুত্বের গ্লানি থেকে, তেমনি মুক্ত করেছে মুসলমানিত্বের বাঁধন থেকে। স্বাধীন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটি যে বাংলা নববর্ষকে গ্রহণ করেছে, তা বোধকরি কেবলই উদ্দেশ্যমূলক রাজনৈতিক অর্থে। রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে বলে রাষ্ট্র ও সরকার কাঠামো একে স্বীকৃতি দেয় বটে; কিন্তু বেঁধে রাখতে চায় নিছক আনুষ্ঠানিকতার বৃত্তে।
অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে যে বাংলা নববর্ষ এখনো পূর্ণ স্বীকৃতি পায়নি, তা বলাই বাহুল্য। স্বীকৃতি পায়নি বলেই বাংলা পঞ্জিকা এখনো আমাদের অর্থপঞ্জিকা হয়ে উঠতে পারেনি। রাষ্ট্র যে কী কারণে শুক্রবারকে সরকারি সাপ্তাহিক ছুটির দিন করে রেখেছে, তা সবাই বোঝে। আর এর ফলে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি আন্তর্জাতিকভাবে তিনদিনের ছুটির ফাঁদে পড়েছে—তাও বোঝে। কিন্তু রাষ্ট্র এবং কোনো কোনো রাজনৈতিক দলও রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করতে চায় বলে এত বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির তোয়াক্কা করে না।
আর কী অদ্ভুত ব্যাপার, আমাদেরও সেই ক্ষতি গায়ে লাগে না ধর্মীয় অন্ধত্বের কারণে। বাংলা পঞ্জিকাকে অর্থপঞ্জি করার দাবি তুললেই বিশ্বঅর্থনীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যতা সৃষ্টি হওয়ার দোহাই দেয়া হয়। যদিও বাংলাদেশের প্রতিবেশ-ভূগোল ও অর্থনৈতিক জীবন মিলিয়ে তেমনটি হওয়াই সবচেয়ে জরুরি। এইভাবে রাষ্ট্র আসলে দুর্বল করে রাখতে চায় স্বদেশি সংস্কৃতির সংঘবদ্ধ হওয়ার শক্তিকে।
চার.
স্বভাবতই আমরা এও দেখি, বাংলা নববর্ষের ওপর অব্যাহতভাবে আক্রমণ চলে—যেন তা রুগ্ন হয়ে পড়ে, যেন তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে জনতার কাছে থেকে। কয়েক বছর ধরে মঙ্গল শোভাযাত্রাকে ঘিরে প্রতি বছর যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে, আরও পরিষ্কার করে বললে তৈরি করা হচ্ছে, তাও ওই বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস।
রাষ্ট্র ও সরকার তাদের রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় এ ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করে, অথবা উসকে দেয় নানাভাবে। শাসন-শোষণের জন্যে তাদের প্রয়োজন বিভক্ত সমাজ, বিচ্ছিন্নতায় আক্রান্ত সমাজ, অনৈক্যের দোলায় দুলতে থাকা সমাজ। তারা তাই এসব অসামাজিক অপপ্রয়াসকে জিইয়ে রাখে, প্রলম্বিত করে। কারণ তাদের প্রয়োজন বিভক্ত উৎসব।
মৌলবাদীরাও বাংলা নববর্ষের ওপর এই আক্রমণ চালিয়ে আসছে অবিচ্ছিন্নভাবে—কেননা তারা মূলত পাকিস্তানি সংস্কৃতিরই অংশ। যে সাংস্কৃতিক আদর্শকে তারা এসবের মধ্যে দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, তা আসলে পাকিস্তানি সংস্কৃতিরই প্রকাশ। প্রতি বছর তাই তাদের পক্ষ থেকে বাংলা নববর্ষকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা চলে—কখনো ধর্মীয় কার্যকারণ দাঁড় করানোর মধ্য দিয়ে, কখনোবা একে নিছক নাগরিকদের উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করে জনবিচ্ছিন্ন একটি জনগোষ্ঠীর উৎসব হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্যে দিয়ে।
পাঁচ.
তার পরও বাংলা নববর্ষ ক্রমবিকাশমান। গ্রাম থেকে শহরে—শহর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় মেট্রোপলিটন শহরগুলোতেও তার উদযাপন ঘটতে শুরু করেছে। রাষ্ট্রবিহীন এক মানবিক উৎসব হয়ে উঠছে বাংলা নববর্ষ। কারণ তার প্রধান শক্তি লোকজ সংস্কৃতি।
বাংলা নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমাদের মূল কোনখানে; মনে করিয়ে দেয় পথে যেতে যেতে ঠিক কোনখানে আমাদের থামতে হবে—কারণ অবিরাম হেঁটে হেঁটে শুধু ক্লান্ত হওয়া চলে না, কোনো বৃক্ষের ছায়ার নিচে দাঁড়িয়ে একটু জিড়িয়েও নিতে হয়।
বাংলা নববর্ষ আমাদের সেই বৃক্ষ—বৃক্ষছায়া।
ইমতিয়ার শামীম : কথাসাহিত্যিক
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)