শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৩০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
শহীদ জিয়াকে স্মরণ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে রাজধানীর ১৬টি স্থানে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী একে একে সবগুলো স্থানে উপস্থিত হয়ে এ কার্যক্রমে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল- মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, শ্যামলী স্কয়ার, সরকারি বাংলা কলেজ এলাকা, পল্লবী মেট্রো স্টেশন, ইসিবি চত্বর, কুড়িল বিশ্বরোড, ফুজি ট্রেড সেন্টার, জোড়পুকুর খেলার মাঠ, বাংলাবাজার, যাত্রাবাড়ী, জুরাইন ও ধানমন্ডি এলাকা।
এ ছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেন।
শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের শপথ
বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘শহীদ জিয়ার আদর্শে দেশ গঠনের শপথ নিতে হবে। কারণ তার রাজনীতি ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দেশ গঠন করা। তাই আমাদের আজও তার আদর্শ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে হবে।’
তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনের কাজে সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আজকের এই অনুষ্ঠান রাস্তার মধ্যে আয়োজন করা হয়েছে, দেখুন কত গাড়ি চলাচল করছে, মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। সে কারণে আমরা কর্মসূচিটি সংক্ষিপ্ত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করি, সমাজের সবাইকে বিভিন্নভাবে একে অপরের সাহায্য-সহযোগিতা করব। একজন নাগরিক হিসেবে যদি আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে একে অপরের পাশে দাঁড়াই, তাহলেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো হবে।’
নেতাকর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র ও শুকনো খাবার বিতরণের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতা-কর্মীদের অসহায় মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তারা জানেন, শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকীতে আমরা সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা তাদের সহায়তা করার চেষ্টা করেছি। আপনাদের কাছেও আমার আহ্বান থাকবে, শুধু দলের পক্ষ থেকে নয়, ব্যক্তিগত উদ্যোগেও যেন আপনারা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান। এটাই শহীদ জিয়ার শিক্ষা।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আসুন, আমরা শপথ গ্রহণ করি, আমাদের যার যার অবস্থান থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। আজকের দিনে এটিই হোক আমাদের প্রত্যাশা, এটিই হোক আমাদের সাফল্য।’
শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ
খিলগাঁওয়ের জোড়পুকুর মাঠে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দেন এবং এ কাজে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকা শহরে বসবাস করি, আমরা যারা বাংলাদেশের নাগরিক, এটি আমাদের দেশ, এটি আমাদের শহর। অবশ্যই সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব রয়েছে, তারা তাদের কাজ করছে। কিন্তু নাগরিক হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আছে, আমরা যেন যতটা সম্ভব কম ময়লা করি। তাহলেই শহর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহর পরিষ্কার থাকলে নাগরিকদের চলাফেরায় যেমন সুবিধা হবে, তেমনি পরিবেশও ভালো থাকবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজও সহজ হবে।’
রাজধানীর জুরাইনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিভির পর্দায় যখন অন্যান্য দেশের ছবি দেখেন, সুন্দর রাস্তাঘাট দেখেন, পরিষ্কার রাস্তাঘাট দেখেন, তখন একটু হিংসা হয় না মনের মধ্যে? যে, আমাদের রাস্তাঘাট কেন এত ময়লা হয়? যে দেশের রাস্তাঘাট পরিষ্কার, সে দেশের সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা যেমন পরিষ্কার করে, একইভাবে সে দেশের জনগণও কিন্তু যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে না। এখন আপনি সরকারের কেউ না। এই কাজটি করার জন্য কিন্তু সরকারের কেউ হওয়ার দরকার নেই। এমপি হওয়ার দরকার নেই। মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। মেয়র হওয়ার দরকার নেই। ওয়ার্ড কমিশনার হওয়ার দরকার নেই। একজন নাগরিক হিসেবে আপনি এই কাজটি করতে পারেন। ময়লাটা আপনার পকেটে নিয়ে নেন। যদি টিস্যু পেপার থাকে, কিছু থাকে, ময়লা নেন। বাদাম খাবেন, তখন বাদামের খোসাটা এমনভাবে এক জায়গায় ফেলেন, যাতে জায়গাটা ময়লা না হয়।’
তিনি বলেন, ‘কোনো পরিষ্কার জায়গায় ময়লা করলে বা আপনার শার্টের মধ্যে যদি একটা দাগ থাকে, হঠাৎ চা পড়ে গেল, খাবার পড়ে গেল, নিজের কাছে খারাপ লাগবে না? ময়লা শার্ট পরে থাকতে ইচ্ছা করবে? তাহলে চিন্তা করেন, আপনি যে জায়গাটায় বসবাস করেন, সেই জায়গাটা যদি ময়লা হয়, আপনার থাকতে ইচ্ছা করবে? কাজেই আসুন, আমরা যদি সবাই মিলে চেষ্টা করি, তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা আমাদের দেশটাকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে তুলতে পারবো।’
বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের নাগরিক হিসেবে সচ্ছল ব্যক্তিরাও যদি একইভাবে এগিয়ে আসেন, তাহলে আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’
‘শুধু রাজনৈতিক দল বা সরকারের ওপর নির্ভর না করে সমাজের প্রতিটি সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিজের অবস্থান থেকে একজন অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তাহলে ধীরে ধীরে দেশের চেহারা এবং মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।’
‘আজকের দিনে সব বিত্তবান ও সচেতন নাগরিকের প্রতি আমাদের আহ্বান- আসুন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াই।’
মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে দরকার জনগণের সমর্থন
দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমান সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে দেশ গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপির সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ। কাজেই জনগণের সহযোগিতা, সমর্থন ও আস্থা আমাদের সঙ্গে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা দ্রুতই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হব।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “দেশটি কারও একার না। দেশটি যেমন কোনো সরকারের একার না, দেশটি যেমন কোনো রাজনৈতিক দলের একার না, দেশটি কোনো পরিবার বা কোনো ব্যক্তির একার না। দেশটি হচ্ছে লাখো-কোটি মানুষের, আমরা যারা বাংলাদেশে বসবাসকারী ২০ কোটি মানুষ, প্রত্যেকের। প্রত্যেকেই এই দেশের মালিক। তাই এই দেশকে যদি গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে।”
অন্যান্য স্থানে দেওয়া বক্তব্যেও প্রধানমন্ত্রী একই ধরনের বার্তা তুলে ধরেন। বিভিন্ন স্থানে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ শেষে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের শিখিয়েছেন দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং কাজের মাধ্যমে দেশ গঠন করতে। আমরা রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করব, সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে চেষ্টা করবে স্বচ্ছল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করার জন্য, কর্মসংস্থান তৈরি করা, শিক্ষা সুবিধা তৈরির বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এ সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করবে।’
আজ (শনিবার) সকালে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন এবং ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির জাতীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।