মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২
ফাইল ছবি
প্রায় জিততে জিততেও পিএসএলে গতকাল করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ হেরেছে লাহোর কালান্দার্স। এরই মাঝে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও বিদেশি তারকা সিকান্দার রাজার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা প্রোটোকল ভাঙার অভিযোগ উঠেছে। পিএসএল সিইও সালমান নাসিরের কাছে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়– অনুমতি ছাড়াই চারজন বহিরাগতকে রাত ১টা ২৫ মিনিটে জোরপূর্বক খেলোয়াড়দের ফ্লোরে নিয়ে যান আফ্রিদি-রাজা।
এ ঘটনায় শাহিন আফ্রিদির সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন সিকান্দার রাজা। জিম্বাবুয়ের এই তারকা অলরাউন্ডার বলেছেন, ‘শাহিন এমন কিছু করেনি। এটি খুবই সাধারণ বিষয়। যারা আমাকে দেখতে এসেছিল, তারা আমার পরিবারের সদস্য, আমারই রক্তের মানুষ। যখন লিগ খেলতে গিয়ে মাসের পর মাস আপনাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হয় এবং আপনার পরিবার সমর্থন দিতে আসে, তখন আপনি তাদের দেখতে দিবেন।’
অবশ্য এজন্য আগেই অনুমতি চেয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেছেন রাজা, ‘আমরা অনুমতি চেয়েছি– এটি এমন বিষয় নয় যে তাদেরকে আমরা লুকোচুরি করে ভেতরে নিয়ে যাব। আমরা সঠিক পদ্ধতি মেনেই গিয়েছি। আমরা যোগাযোগ কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছি, এমনকি উচ্চমহলে কথা বলেছেন লাহোর ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকও (সামিন রানা)। যখন আপনার পরিবারকে কয়েক ঘণ্টার জন্য নিজের রুমে নিতে চেয়ে “না” শোনেন, এটি হতাশাজনক।’
পাঞ্জাব পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাতে সিকান্দার রাজার পরিচিত চারজন ব্যক্তিকে খেলোয়াড়দের রুমে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পিসিবির সিকিউরিটি ম্যানেজার এবং পিএসএল সিইও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অনুরোধ দু’বার প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, শাহিন আফ্রিদি ও রাজা নিরাপত্তারক্ষীদের বাধা উপেক্ষা করে ওই চার ব্যক্তিকে জোরপূর্বক হোটেলের রুমে নিয়ে যান এবং তারা সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন।
বিষয়টি নিয়ে লাহোর কালান্দার্সের মিডিয়া হেড উমর ফারুক জানিয়েছেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং এ বিষয়ে পিএসএল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছেন। এদিকে ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, পাঞ্জাব পুলিশ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলমান পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারিয়ে শুভসূচনা করেছিল। ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়ে শাহিন-মুস্তাফিজদের দল ৬৯ রানের বড় জয় পায়। গতকাল দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে ১২৮ রানে থামলেও, শাহিন-ফিজদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা জাগায় লাহোর। শেষদিকে ফখর জামানের বিরুদ্ধে বল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ ওঠে, ৫ রান জরিমানা করা হয় লাহোরকে। এরপর ৩ বল এবং ৪ উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ জিতে নেয় করাচি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)