রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
ফুটবল ম্যাচ কেবল ৯০ মিনিটের লড়াই নয়, এটি আসলে দুটি ভিন্ন গল্পের কোলাজ। শেষ ষোলোর মঞ্চে যার প্রথমার্ধটা যদি হয়ে থাকে কানাডার দাপুটে ঝড়ের, তবে দ্বিতীয়ার্ধটা ছিল মরক্কোর বিধ্বংসী এক সুনামির। শুরুর দিকে ‘দ্য রেডস’দের আক্রমণের তোড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়া দলটিই বিরতির পর মাঠে নামল রূপকথার এক নতুন অধ্যায় লিখতে। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে কানাডার যাবতীয় প্রতিরোধ চূর্ণ করে ৩-০ গোলের দুর্দান্ত এক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে মরক্কো। আর এই জয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই গতির ঝড় তোলে সহ-আয়োজক কানাডা। হাই-প্রেসিং ফুটবলে মরক্কোকে তটস্থ করে রাখে তারা। গোল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে পারতো উত্তর আমেরিকার দেশটি, যদি না পোস্টের নিচে ‘চীনের প্রাচীর’ হয়ে দাঁড়িয়ে যেতেন ইয়াসিন বুনু। ষষ্ঠ মিনিটে জনাথন ডেভিডের একটি নিশ্চিত গোলের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন বুনু। এরপর দ্বাদশ মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির বুলেট গতির শটও অসাধারণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন এই মরক্কান বাজপাখি।
কানাডার আক্রমণের তীব্রতার মাঝেই ২২তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় মরক্কো। ইনজুরিতে পড়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ইসমাইল সাইবারি। তার বিকল্প হিসেবে মাঠে নামানো হয় সুফিয়ান রাহিমিকে। ম্যাচের ধারার কিছুটা পরিবর্তন আসে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’-এর পর। ৩০তম মিনিটে মাঠে নামা রাহিমির পা থেকেই আসে মরক্কোর প্রথম অন-টার্গেট শট, যদিও তা কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন।
বিরতির ঠিক আগে মাঠে ছড়ায় চরম উত্তেজনা। আচরাফ হাকিমি ও রিচি লারিয়ার মাঝে অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের জেরে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এরপর একে একে জনাথন ডেভিড, আজেদ্দিন উনাহি এবং বিলাল এল খান্নুসও বুকড হলে কার্ডের ছড়াছড়ির মধ্য দিয়ে ছয় মিনিট যোগ করা সময় শেষে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পর রূপ বদলে গেল মরক্কোর। প্রথমার্ধের রক্ষণাত্মক খোলস ছেড়ে আক্রমণে ধার বাড়ায় তারা। ৫০তম মিনিটে অনুশীলনে রপ্ত করা নিখুঁত এক ফ্রি-কিক থেকে ডেডলক ভাঙে মরক্কো। আচরাফ হাকিমির বাড়িয়ে দেওয়া ছোট পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পান আজেদ্দিন উনাহি। কানাডার একাধিক ডিফেন্ডারের চোখের পলক ফেলার সুযোগ না দিয়ে তার নেওয়া নিচু শটটি সরাসরি জালে জড়ায়, যেখানে গোলরক্ষক ক্রেপো কোনো সুযোগই পাননি।
গোল হজমের পর কানাডা মরিয়া হয়ে আক্রমণে উঠলেও বুনুর নেতৃত্বে মরক্কোর রক্ষণ ছিল দুর্ভেদ্য। উল্টো সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রতিআক্রমণে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে আফ্রিকান দলটি। ৮২তম মিনিটে দ্রুতগতির এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। ডি-বক্সে প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারের কড়া পাহাড়ার মুখে বল ধরে রেখে দিয়াজ পাস দেন উনাহিকে। ঠাণ্ডা মাথার দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান ২-০ করেন এই মিডফিল্ডার।
৮৭ মিনিটে সুফিয়ান রাহিমির একটি হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে হ্যাটট্রিকের সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবে ম্যাচের ইনজুরি টাইমের অষ্টম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তিনি। মাঝমাঠ থেকে দিয়াজের ডিফেন্স-চেরা পাস ধরে বাম প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে দারুণ এক নিচু শটে কানাডার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন রাহিমি। তার এই গোলেই ৩-০ ব্যবধানে সহজ জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর।