বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ফাইল ছবি
টিকটক ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বজায় রাখতে নেয়া বিভিন্ন কঠোর পদক্ষেপের চিত্র এই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের দায়ে টিকটক বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও সরিয়ে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভিডিওগুলো ওই সময়ে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের প্রায় ০.৮ শতাংশ। টিকটকের স্বয়ংক্রিয় মডারেশন সিস্টেম এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। কারণ, ডিলিট করা ভিডিওগুলোর ৯৯.৬ শতাংশই ব্যবহারকারীদের কোনো অভিযোগ পাওয়ার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মুছে ফেলা হয়েছে। এমনকি এই ভিডিওগুলোর মধ্যে ৯৪.৪ শতাংশই ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে ভুলবশত কোনো ভিডিও সরিয়ে ফেলা হলে তা যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগও ছিল। যার ফলস্বরূপ, পরবর্তীতে পর্যালোচনার পর ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও পুনরায় প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে টিকটকের কার্যক্রম পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একই সময়ে প্ল্যাটফর্মটি ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও ডিলিট করেছে, যা তাদের মোট আপলোড হওয়া কনটেন্টের ০.৫ শতাংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট শনাক্ত ও সরিয়ে ফেলার হার ৯৯.৩ শতাংশ। এছাড়া, প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে টিকটক মোট ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট ডিলিট করেছে। পাশাপাশি, ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারী সন্দেহে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২টি অ্যাকাউন্টও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
কনটেন্ট মডারেশনের পাশাপাশি কমেন্ট নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও টিকটক বেশ সক্রিয়। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে প্ল্যাটফর্মটি ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮টি কমেন্ট সরিয়ে ফেলেছে, যা গত বছরের শেষ প্রান্তিকের তুলনায় বেশি। টিকটকের নীতিমালা অনুযায়ী সরিয়ে ফেলা ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৮.৬ শতাংশ সংবেদনশীল বিষয়বস্তু, ১২.৬ শতাংশ নিরাপত্তা ও সামাজিক আচরণবিষয়ক নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এছাড়া ১৬.৫ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ ও চ্যালেঞ্জ, ১২.৯ শতাংশ অশালীন আচরণ এবং ২.১ শতাংশ এডিট করা মিডিয়া বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দিতেই টিকটক নিয়মিত এই রিপোর্ট প্রকাশ করে। আগ্রহী ব্যবহারকারীরা টিকটকের ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারে গিয়ে এই রিপোর্ট এবং কনটেন্ট নীতিমালা সম্পর্কে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।