শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
রমজানের প্রথম দিনেই জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারের ইফতারি বাজার। প্রতি বছর রমজান এলেই ইফতারের স্বাদ নিতে এখানে ছুটে আসেন নানা প্রান্তের মানুষ। ইফতারিতে স্বাদ ও বৈচিত্র্যে ৪০০ বছরের পুরোনো এ বাজার এখনো রোজাদারদের অন্যতম আকর্ষণ।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে চকবাজারের সার্কুলার রোডে গিয়ে দেখা যায়, জোহরের নামাজের পরেই ইফতারির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। হাঁক-ডাকে জমজমাট হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। ক্রেতারাও ভিড় জমাচ্ছেন দুপুর থেকেই। ইফতারের সময় যতোই গড়াচ্ছে, ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে।
সাধারণ পাড়া মহল্লায় ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু ইফতারির দৈনিক উপকরণ হিসেবে বিক্রি হয়ে থাকলেও চকবাজারের ইফতারি বাজার কিছুটা আলাদা। এখানকার ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ যেমন বিখ্যাত, তেমনি রসনা বাড়াতে জুড়ি নেই প্রায় ১০০ রকম ইফতারির আইটেমেরও।

খাসির পা থেকে শুরু করে হরেক রকম ইফতারি পাওয়া যায় এই চকবাজারে। এর মধ্যে রয়েছে চিকেন আচারি ১২০ টাকা, শাহী রুটি ৮০-১০০ টাকা, দই বড়া ৫ পিস ২০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৮০ টাকা, চিকেন স্টেক ৮০ টাকা, চিকেন লেগপিস ৮০ টাকা, তান্দুরি চিকেন ১০০ টাকা, চিকেন বল ৬০ টাকা, চিকেন বান ৪০ টাকা, শর্মা ৪০ টাকা, চিকেন টোস্ট ৬০ টাকা, ডিম চপ ২০ টাকা, শাহী পরোটা ৬০-৮০ টাকা, খাসির লেগপিস ৯০০ টাকা, কোয়েল পাখি পিস ৯০ টাকা, টিকা ১০-৩০ টাকা, সমুচা ২০ টাকা, সুতি কাবাব কেজি ১৬০০ টাকা, নিমকি ২০ টাকা, শাহী জিলাপি কেজি ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ছোলা, মুড়ি, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, ঘুঘনি পাওয়া যায়, যা বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ২০ টাকার মধ্যেই।
এদিকে চকবাজারের অন্যতম আকর্ষণ বড় বাপের পোলায় খায় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়। সামনে গেলেই শোনা যায় সে মজার ছন্দের ডাক, ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙা ভইরা লইয়া যায়’, ‘ধনী-গরিব সবাই খায়, মজা পাইয়া লইয়া যায়’।
বড় বাপের পোলায় খায় মূলত মাংস, কাবাব, ডিম, ঘি, বুটের ডাল, মাংসের কিমা ও নানা ধরনের মসল্লা দিয়ে তৈরি করা হয়। বৈচিত্র্যময় স্বাদের জন্য রোজাদারদের আগ্রহের লিস্টে থাকে এ খাবারটি।
কথা হয় বিক্রেতা মোহাম্মদের সঙ্গে। তিনি বলেন, বড় বাপের পোলায় খায় চকবাজারের জনপ্রিয় ইফতারি আইটেম। ঢাকার নানান জায়গা থেকে মানুষ এই খাবার কিনতে চকবাজারে আসেন। ১২ রকমের আইটেম ও মসল্লাসহ এইটা তৈরি করা হয়। গতবছরের মতো এবারেও প্রতি কেজি ৮০০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে।
আরেক বিক্রেতা মোশাররফ বলেন, এবারে রোজার প্রথম দিনেই বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। আশা করছি এমনই থাকবে। আর আমরাও মানসম্মত ইফতারি বিক্রি করার চেষ্টা করে থাকি।
চকবাজারের বেশিরভাগ ইফতার বিক্রেতারা বংশ পরম্পরায় এখানে ব্যবসা করছেন। তবে তাদের পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীও রয়েছেন ,যারা শুধু রমজান মাসেই এখানে ইফতারি বিক্রি করেন। তবে এখানকার ক্রেতারা শুধুমাত্র পুরান ঢাকার নয়, বরং ঢাকার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষজনও ইফতারির স্বাদ নিতে এখানে আসেন।
কথা হয় মগবাজার থেকে আসা ক্রেতা মো. শামীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতি বছর রোজা এলে চকবাজার থেকে ইফতার কিনে থাকি। আজ প্রথম রোজা, ভাবলাম এখান থেকেই আজ ইফতার কিনি, তাই এলাম।
খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা তাহেরুল বলেন, চকবাজারের মূলত আসা হয় বিভিন্ন রকম মুখরোচক ইফতারি আইটেমের জন্য, যা হয়তো সচরাচর অন্যান্য জায়গায় পাওয়া যায় না। তব বেশিরভাগ ইফতার খোলা রেখে বিক্রি করা হয়, এ বিষয়ে বিক্রেতাদের সচেতন হওয়া উচিত।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)