রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশে তেলের দাম আমাদের দেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ সরকার তেলের ওপর বড় অংকের ভর্তুকি দেয়। জ্বালানি তেল পাচার রোধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী রেলস্টেশন সংলগ্ন পদ্মা এবং যমুনা অয়েল ডিপোর সামনে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে জ্বালানি তৈল মজুত এবং পাচার প্রতিরোধের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নৌপথে আমরা পেট্রোল পরিচালনা করছি। সীমান্তবর্তী এলাকার বিওপিগুলো সতর্ক অবস্থানে আছে। আমাদের সীমান্তের ওপারেও বিওপি আছে, যারা নিয়মিত নজরদারি করছে, যাতে ব্যারেল বা ছোট জারে (জার্কিন) করে তেল পাচার না হয়। বিশেষ করে আইসিটি (ICT) পয়েন্টগুলোতে যেখানে পার্শ্ববর্তী দেশের ট্রাক প্রবেশ করে (যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জে) সেখানে বিজিবি সদস্যরা এমনকি ট্রাকের ট্যাংকারের ভেতরে কতটুকু তেল নিয়ে ঢুকছে এবং যাওয়ার সময় কতটুকু নিয়ে যাচ্ছে তাও চেক করছে।
তিনি বলেন, ভারত থেকে যে তেল আসে তা ইন্টারন্যাশনাল রেট অনুযায়ী আসে। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার ভর্তুকি দিয়ে তা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়। ওই তেলের দাম আর পার্শ্ববর্তী দেশের বাজারের তেলের দাম এক না হওয়ায় পাচারের একটি সম্ভাবনা থাকে। পাচার রোধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। সীমান্তের ৮ কিলোমিটারের ভেতরের অংশ আমরা দেখছি এবং বাকি অংশ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আরও বলেন, রাজশাহী জেলায় তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদ্মা অয়েল পিএলসি রাজশাহী, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড হরিয়ান এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড রাজশাহী ডিপোতে গত ২৫ মার্চ থেকে অত্র ব্যাটালিয়ন কর্তৃক তিন প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। উক্ত ডিপোগুলোতে বিজিবি সদস্যগণ সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে নিয়মিত টহল ও তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজশাহী জেলায় দায়িত্বপূর্ণ এলাকার তিনটি ডিপো থেকে সর্বমোট ৬৪টি পেট্রোল পাম্পে নিয়মিতভাবে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে সীমান্তের ৮ কিলোমিটার অর্থাৎ বিজিবির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১২টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। সব ফিলিং স্টেশনে নিরবিচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিতের জন্য বিজিবি বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি (BOP) থেকে সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১৯২টি বিশেষ টহল এবং তল্লাশি অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ২২৮টি ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। যাতে পার্শ্ববর্তী দেশে আমাদের জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে। এছাড়া অধীনস্থ বেলপুকুর এবং রাজাবাড়ি স্থায়ী চেকপোস্টের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০০টি ট্রাক, লরি এবং অন্যান্য যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। নৌপথে স্পিডবোটের মাধ্যমে গত ২৫ মার্চ থেকে মোট ৪৮টি নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক নজরদারি জারি রাখা হয়েছে।
এসময় বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)