বৃহঃস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩


ফ্রুট ব্যাগিংয়ে সুরক্ষিত হিমসাগর আম, রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

মেহেরপুর থেকে

প্রকাশিত:১৮ জুন ২০২৬, ১১:০৯

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মেহেরপুরের সুস্বাদু হিমসাগর আম সংগ্রহে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে বাগানগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি। এতে কীটনাশক, পোকামাকড় ও প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আম সুরক্ষিত থাকে।

হিমসাগর আম সংগ্রহের শেষ মুহূর্তে জেলার আমচাষি ও বাগান মালিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দেশের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা ও সুনাম থাকায় চলতি মৌসুমেও বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে মেহেরপুরে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর, আম্রপালি, ফজলি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌরমতি জাতের আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ৪০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬০ থেকে ১৭০ কোটি টাকা।

এর মধ্যে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে হিমসাগর আমের বাগান রয়েছে। এসব বাগান থেকে প্রায় ২৪ হাজার টন হিমসাগর আম উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রায় শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় হিমসাগর আম চাষে প্রতিবছরই আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন বাগান গড়ে উঠছে। গত কয়েক বছর ধরে মেহেরপুরের উৎপাদিত হিমসাগর আম ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপদ ও মানসম্মত আম উৎপাদনের জন্য ফ্রুট ব্যাগিংসহ আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে আসছে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী চলতি মৌসুমেও আম প্রস্তুত করছেন চাষিরা।

মেহেরপুরের গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (গ্যাপ) সনদপ্রাপ্ত আমচাষি শাহিনুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি করি। এক মাস আগে বিদেশি ক্রেতারা এসে আম উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গেছেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আম প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ বছরও ৫ থেকে ৭ টন হিমসাগর আম রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।

ঝাওবাড়িয়া গ্রামের আমচাষি সাহাবুদ্দিন বলেন, মেহেরপুরের হিমসাগর আমের চাহিদা অনেক ভালো। ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহারের ফলে আম বিভিন্ন পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পায় এবং বিষমুক্ত থাকে। ফলে দেশের বিভিন্ন বাজারে এ আমের কদর দিন দিন বাড়ছে।

সুবিদপুর গ্রামের আমচাষি আব্দুল জলিল জানান, উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে উৎপাদিত আম ইউরোপের সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, ইতালি এবং এশিয়ার চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। বিদেশ থেকে আসা বায়ারদের দেওয়া প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে তারা ফ্রুট ব্যাগিংসহ আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জীব মৃধা বলেন, জিআই স্বীকৃত মেহেরপুরের হিমসাগর আম এখন শুধু দেশেই নয়, বিদেশের বাজারেও জনপ্রিয়। নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদনে কৃষি বিভাগ বাগান মালিকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে।

তিনি আরও বলেন, মানসম্মত আম উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে মেহেরপুরের হিমসাগর আমের রপ্তানি আরও বাড়বে এবং কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন।

সম্পর্কিত বিষয়:

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৩:৪৩ - ৫:০৬ ভোর
যোহর ১১:৫৮ - ৪:২৯ দুপুর
আছর ৪:৩৯ - ৬:৪১ বিকেল
মাগরিব ৬:৪৬ - ৮:০৯ সন্ধ্যা
এশা ৮:১৪ - ৩:৩৮ রাত

বৃহঃস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬