বৃহঃস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এইডস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে- নারী যৌনকর্মী, পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্ককারী ব্যক্তি (এমএসএম) এবং মাদকসেবী।
বুধবার (১৭ জুন) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে ‘এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার এবং নৈতিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাশরুর বিন আজাদ। তিনি জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্তত ৩ হাজার ৭০৭ জন ব্যক্তি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে নারী যৌনকর্মী এক হাজার ৫০৬ জন, পুরুষে-পুরুষে যৌনসম্পর্ককারী ব্যক্তি (এমএসএম) এক হাজার ৪৩৬ জন এবং মাদকসেবী ৭৬৫ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বরিশাল বিভাগে মোট ২০৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন মারা গেছেন এবং ৪ জন অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে ১৮৫ জন নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
ডা. মাশরুর বলেন, অনেকের ধারণা এইডস মানেই মৃত্যু। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের ফলে শরীরে এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) ভাইরাসের মাত্রা এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব, যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কার্যত থাকে না। এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি বিয়ে করতে এবং সন্তান গ্রহণ করতেও সক্ষম হন।
তিনি বলেন, সমাজে এইচআইভি নিয়ে এখনও নানা ভুল ধারণা ও আতঙ্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। বাস্তবে এইচআইভি সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে বসবাস বা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে ছড়ায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত অন্যের শরীরে প্রবেশ করলে কিংবা অনিরাপদ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, পানিতে ভাসমান বরফখণ্ডের সামান্য অংশ দৃশ্যমান থাকে, আর অধিকাংশ অংশ পানির নিচে থাকে। এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। সামাজিক সংকোচ, ভীতি ও বৈষম্যের কারণে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে আজ এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর বাইরে আরও অনেকে সংক্রমিত থাকতে পারেন, যারা এখনও চিকিৎসার আওতায় আসেননি। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
এইচআইভি প্রতিরোধে গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ কে এম নাজমুল আহসান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।