বৃহঃস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
ফাইল ছবি
দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের আতঙ্কে ঋণ বিতরণ কমেছে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
সংগঠনটির সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশে শিল্প খাতে খেলাপি ঋণের হার ৩১.২ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যাংকগুলো এখন চরম আতঙ্কে ভুগছে। এ কারণে তারা নতুন করে ঋণ দিতে পারছে না। ব্যাংকগুলো এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতেও অনীহা দেখাচ্ছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই আয়োজিত ‘ব্যাংকিং খাতের সমন্বয়: ঋণদাতা ও ঋণগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। এতে আরও বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)-এর চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট) নওশাদ মোস্তফা, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল আরেফিন, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
তাসকীন আহমেদ বলেন, বর্তমানে বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি সংকুচিত হয়ে ৬.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের ৭.১৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে শিল্প খাতের ৫০.৪৬ শতাংশ ঋণ অনাদায়ী এবং খেলাপি ঋণের হার ৩১.২ শতাংশে পৌঁছানোয় ব্যাংকগুলো চরম আতঙ্কে ভুগছে। এ ছাড়া ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নেওয়া ঋণের ৩৫.৪৩ শতাংশ এখন সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমাদের ব্যাংকিং সিস্টেমে তারল্যের কোনো অভাব নেই; ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ৬ লাখ ২৬ হাজার ৪৪ কোটি টাকার তারল্য সম্পদ এবং রেকর্ড ৩ লাখ ২১ হাজার ২৫৫ কোটি টাকার অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। ব্যাংক খাতের তারল্যের অন্যান্য সূচকগুলোও অত্যন্ত শক্তিশালী; লিকুইডিটি কভারেজ রেশিও দাঁড়িয়েছে ১৮৫.৩১ শতাংশ, যা ন্যূনতম চাহিদার প্রায় দ্বিগুণ। এ ছাড়া নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও ১০৫.৬৫ শতাংশ এবং আমানত প্রবৃদ্ধি এক বছর আগের ৮.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ১০.৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, পাবলিক সেক্টর ক্রেডিট গ্রোথ অবিশ্বাস্যভাবে বেড়ে ২৬.১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাই-জানুয়ারি সময়ে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ৭৩ হাজার ৩৫ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ (যা গত বছরের তুলনায় ৬৭৩ শতাংশ বেশি) প্রমাণ করে যে ব্যাংকগুলো এখন ‘রিস্ক-ফ্রি লেন্ডিং’-কে প্রাধান্য দিচ্ছে। এই প্রবণতা বেসরকারি খাতকে ঋণবঞ্চিত করে একটি চরম ‘ক্রেডিট ক্রাউডিং আউট’ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)