শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর তুলনামূলক বেশি নির্ভরতা এবং জরুরি পরিস্থিতি বা অপ্রত্যাশিত সংকট মোকাবিলায় বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সিপিডির (সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গঠন, উদারীকরণ এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুবসমাজ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও বরাদ্দের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে, সেটি যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।
তিনি আরও বলেন, বাজেটের অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বড় আকারের থোক বরাদ্দও রয়েছে। এসব বিষয় ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক নীতির লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে পরিকল্পনাগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার ওপর।
তিনি আরও বলেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষার বিষয় হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য ও সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাজেটের অর্থায়ন কাঠামো এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।