মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাজস্ব ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারের অংশ হিসেবে নতুন প্রতিষ্ঠান দুটির মাধ্যমে একদিকে করনীতি প্রণয়ন, অন্যদিকে রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনা পৃথক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ দেওয়া বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, নতুন কাঠামোয় রাজস্ব নীতি বিভাগ সরকারের ‘থিংক ট্যাংক’ হিসেবে কাজ করবে। অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, গবেষক এবং শিল্প-বাণিজ্য সংগঠনের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এই প্রতিষ্ঠান একটি ভারসাম্যপূর্ণ, প্রতিযোগিতামূলক ও উন্নয়নবান্ধব কর কাঠামো প্রণয়ন করবে। আর রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ হবে ‘অ্যাকশন টিম’, যারা কার্যকরভাবে রাজস্ব আদায় ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা। রাজস্ব ব্যবস্থায় এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে করদাতাকে অপ্রয়োজনে কর্মকর্তাদের কাছে যেতে না হয়। এ জন্য এন্ড-টু-এন্ড অটোমেশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আমির খসরু বলেন, অর্থনীতির আকার বাড়লেও সে অনুযায়ী রাষ্ট্রের রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়েনি। এ ব্যবধান কমাতে বিদ্যমান করদাতাদের ওপর শুধু বাড়তি করের বোঝা চাপানো যাবে না। করের আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর অব্যাহতি যৌক্তিক করতে হবে, কর ফাঁকি ও কর পরিহার বন্ধ করতে হবে এবং অটোমেশনের মাধ্যমে করদাতাদের কর পরিপালন বাড়াতে হবে।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ বেশি। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী হলেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে নিজস্ব অর্থায়ন ও বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে যেতে চায়। উন্নয়নের অর্থায়ন নিজেদের সম্পদ থেকেই করতে হবে।
রাজস্ব প্রশাসনকে আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ই-ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, আসিকুডা ওয়ার্ল্ড, ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো এবং আধুনিক স্ক্যানিং ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য সম্পূর্ণ যোগাযোগমুক্ত ও কর্মকর্তানির্ভরতা কম এমন রাজস্ব প্রশাসন গড়ে তোলা।
দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হিসেবে কম কর-জিডিপি অনুপাতের কথা উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। ২০২৩ সালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে গড় কর-জিডিপি অনুপাত ছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে বাংলাদেশের ছিল মাত্র ৭ দশমিক ২ শতাংশ।
মন্ত্রী বলেন, ‘রাজস্ব সম্মেলন’ শুধু রাজস্ব আদায়ের হিসাব-নিকাশের বিষয় নয়। এটি জাতীয় ঐকমত্য গঠনেরও একটি প্ল্যাটফর্ম। নিজস্ব অর্থায়নে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার পথ নির্ধারণে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।