বৃহঃস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩


সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মুনাফা ১১.৬৮ থেকে ১১.৭২ শতাংশ ঘোষণা

অর্থনীতি ডেস্ক

প্রকাশিত:১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৭

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের ৪র্থ সভায় এ মুনাফা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের ৪র্থ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপির সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং স্কিমের বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের ৪র্থ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফা দেওয়ার বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। আলোচনার পর মুনাফা দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে।

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনিকে ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর পর্যন্ত পেনশন দেওয়ার সুযোগ রাখার বিষয়টি নিয়েও সভায় সিদ্ধান্ত হয় ।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ইসলামিক ভার্সন চালুর প্রস্তাবও সভায় গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের স্কিম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

সভায় চাঁদা দাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। ন্যূনতম পাঁচ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ সহ প্রস্তাব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে দেওয়া কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও সভায় আলোচিত হয়। বর্তমানে দেওয়া কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুফল দেওয়া এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় অর্থ সচিব সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:২৯ - ৫:৪০ ভোর
যোহর ১১:৫৪ - ৪:১০ দুপুর
আছর ৪:২০ - ৫:৫৭ বিকেল
মাগরিব ৬:০২ - ৭:১৩ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৮ - ৪:২৪ রাত

বৃহঃস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬