শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২
ছবি-সংগৃহীত
গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। সরকারিভাবে এখনো ফলাফল ঘোষণা করা হলেও বেসরকারি ভাবে এই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বিএনপি। এনিয়ে গুরুত্ব সহকারে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
‘বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির জয়, প্রাক্তন শাসকদের পুত্র প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন’— এমন শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরে আসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে মাসের পর মাস ধরে চলা অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ।
ভোটের ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর জয়কে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। ‘১৭ বছর নির্বাসনে থাকা এক ব্যক্তির (তারেক রহমান) নাটকীয় উত্তরণ’— শিরোনামে বিবিসি জানিয়েছে, প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যাচ্ছে- বিএনপি নির্বাচনে বড় জয় পেতে চলেছে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
যুক্তরাজ্যের আরেক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের শিরোনাম, ‘হাসিনার উৎখাতের পর প্রথম নির্বাচনে প্রথম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেলো বিএনপি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর সামগ্রিকভাবে নির্বাচনি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের খবর গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করেছে। একটি শিরোনাম সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে: ‘বিএনপি জয় দাবি করেছে, জামায়াত সন্তুষ্ট নয়’।
আল-জাজিরা আরও উল্লেখ করেছে, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলের অনুযায়ী, বিএনপির পর সবচেয়ে বেশি আসন পেতে চলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে জামায়াত ফলাফল প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘জেন-জি উত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে বড় জয় পেলো বিএনপি, সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে বড় জয় অর্জন করছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটে দলটি বৃহৎ জনমত পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপিত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি লিখেছে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটানোর পর প্রথমবারের মতো নতুন সরকার নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করেছে বিএনপি। সংসদের ৩০০ আসেনের মধ্যে বিএনপি এবং তার মিত্ররা মোট ২১২টি আসন পেয়েছে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের অন্যান্য ১০টি মিত্র দল সবমিলিয়ে পেয়েছে ৭৭টি আসন। তবে জামায়াতে ইসলামী ভোট গণনা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অনিয়মের সমাধান না হলে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলেছে, ‘তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি বাংলাদেশে বিশাল জয়ের দিকে এগিয়ে, স্বীকার করল জামায়াত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর প্রথম নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জনের মাধ্যমে ঢাকায় ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি (বিএনপি)।
দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে শিরোনামে জানায়, ‘বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের বড় জয় ঘোষণা করেছে ইসি; ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিই জিতেছে’।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক দ্য ডন শিরোনামে লিখেছে, ‘নির্বাচনে বড় বিজয় পেল বিএনপি, স্থিতিশীলতা রক্ষর প্রতিশ্রুতি’।
দেশটির আরেক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজও বাংলাশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। একটি শিরোনামে জিওনিউজ লিখেছে, ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতল বিএনপি।’ আরেক প্রতিবেদনের শিরোনামে বলা হয়েছে, ‘বিএনপির বিজয়ের পর (নতুন সরকারের অধীনে) বাংলাদেশের সঙ্গে ভাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় পাকিস্তান।’
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)