সোমবার, ৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩


‘খেলা হবে’ মমতার হলো ‘খেলা শেষ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত:৪ মে ২০২৬, ১৮:৫১

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাইরাল হওয়া ‘খেলা হবে’ গানটি লিখেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর এই গানটি বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেস পর্যন্ত রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের মাঝে আলোড়ন তৈরি করেছিল। এর পাঁচ বছর পর তৃণমূল চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারকে সরিয়ে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে সেখানে প্রার্থী করে। দলের আশা ছিল এই গানের স্রষ্টা দেবাংশু ভট্টাচার্য হয়তো হুগলিতে ম্যাজিক দেখাবেন। কিন্তু সেই বাজি উল্টো ফল দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ‘খেলা হবে’ গানের স্রষ্টা দেবাংশু ভট্টাচার্যের পাশাপাশি মমতা বন্দোপাধ্যায়ের জন্য এখন সময়টা ‘খেলা শেষের’। তৃণমূলের এই খেলা শেষের সুর এখন বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি বিভাগসহ পুরো রাজ্যজুড়ে বাজছে।

পশ্চিমবঙ্গে ‘বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির’ অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি জেলা। এসব জেলা হচ্ছে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর চব্বিশ পরগনা এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। এই জেলাগুলোর ফলাফলই মূলত পশ্চিমবঙ্গের ভোটের হিসেব পাল্টে দেয়।

অংকটা সহজ ছিল, ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় বিজেপিকে যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জাদুকরী সংখ্যা পার করতে হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি বিভাগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্গে হানা দেওয়া তাদের জন্য অপরিহার্য ছিল।

বিজেপি যেমন উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ির মতো তাদের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো ধরে রেখেছে, ঠিক তেমনি এমন কিছু এলাকায় তারা বড় ধরনের থাবা বসিয়েছে; যা আগে তাদের নাগালের বাইরে ছিল। এর মধ্যে রয়েছে আদিবাসী অধ্যুষিত মেদিনীপুর এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্সি বিভাগের কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর বিস্তীর্ণ এলাকা।

তবে প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্সি বিভাগে তৃণমূলের আধিপত্য এখন আলগা হয়ে আসছে। বাংলায় কোনও ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে এর আগে এমন পরিবর্তনের হাওয়া বইতে দেখা গিয়েছিল বহু বছর আগে। তখন বামফ্রন্টের তিন দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল সেই পরিবর্তন।

নির্বাচনী ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে প্রেসিডেন্সি অঞ্চলে; যেখানে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫৪। অন্যদিকে, গত বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় এই অঞ্চলে তৃণমূলের আসন সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে এখন ৫১টিতে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই প্রেসিডেন্সি বিভাগে মোট ১০৫টি আসন রয়েছে; যার অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো হলো কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা। গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সেখানে ৯০টি আসনে জিতেছিল। আর বিজেপির ঝুলিতে জুটেছিল মাত্র ১৪টি আসন।

তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত মেদিনীপুরে বিজেপি এগিয়ে আছে। প্রেসিডেন্সি বিভাগের হাওড়া দক্ষিণ ও হাওড়া উত্তর আসনেও গেরুয়া শিবির এগিয়ে রয়েছে। তবে হাওড়ার মধ্যাঞ্চলীয় আসনগুলো ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তৃণমূল। হাওড়া ছাড়াও বর্তমানে কলকাতার চারটি আসনে বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। এসব আসন হলো শ্যামপুকুর, এন্টালি, বেলেঘাটা এবং মানিকতলা।

একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে দমদম ও দমদম উত্তর আসনে। সেখানেও এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে হাজির হয়েছে ডায়মন্ড হারবার। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হারবারে জয়ের পথে এগিয়ে আছেন বিজেপির দীপক কুমার হালদার।

ভোটগ্রহণের সময় ওই এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল এবং পাশের ফলতা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের পর পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খেলা’ সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। কারণ বিজেপি উত্তরবঙ্গের ঘাঁটি ধরে রাখার পাশাপাশি সেসব আসনেও অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে শক্ত ঘাঁটি ছিল তৃণমূলের।

কলকাতার প্রাণকেন্দ্র তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের দুর্গ ভবানীপুরেও চলছে এক মহাযুদ্ধ; সেখানে তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:০২ - ৫:১৮ ভোর
যোহর ১১:৫৫ - ৪:২২ দুপুর
আছর ৪:৩২ - ৬:২৩ বিকেল
মাগরিব মাগরিব ৬:২৮ - ৭:৪৪ সন্ধ্যা
এশা ৭:৪৯ - ৩:৫৭ রাত

সোমবার ৪ মে ২০২৬