রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। ছবি-সংগৃহীত
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৭০০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৬৭৫ জন এবং চীনে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের শত শত বিদেশি রয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপ ও পানির নিচে থাকা মরদেহ উদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে নেপালের কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা হিসেবে নেপালকে ৩৬ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে দেশটি ৫ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল।
এদিকে চীনে গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজের সংখ্যা কমে ৫৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৮ জন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ ধসে বরফ ও পাথরের স্তূপ নেমে আসার পর আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংস হয়েছে সড়ক, সেতু, বসতি ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৬৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পর্যটক ও বিদেশি কর্মীসহ ৫৮৯ জন বিদেশি এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিদেশি ও নেপালি নাগরিক মিলিয়ে মোট ৭৫৩ জন পর্যটকেরও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ভারতীয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৮৮ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ২৮৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত চার ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্যোগের পর আরও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী এলাকার বাসিন্দা এবং উদ্ধারকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও নিখোঁজের সংখ্যা নিরূপণের কাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।