রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলছেন, ‘খাল কেটে কুমির আনবেন না, এমন কাজ করবেন না, যাতে বাংলাদেশের আবার সে ফ্যাসিস্টরা মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে।’
রোববার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সম্পর্কিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দুই বিঘা জমি কবিতার কয়েক লাইন উদ্ধৃতি করে বিগত আওয়ামী লীগের বিষয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাঙালের ধন চুরি করতে করতে এমন পর্যায়ে তারা চলে গিয়েছিল, তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। গোটা সংসদ, তথাকথিত মন্ত্রিপরিষদ এমনকি প্রশাসনের কিছু লোকদের নিয়ে.. আঞ্চলিক ভাষায় বলতে হয় তারা ভাগছে, দেশ থেকে পালায় গেছে। এমন পরিণত যাতে আমাদের না হয়। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা টেবিল চাপয়ে সমর্থন জানান।
এ সময় বিরোধী দলের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেদিকে আপনাদেরও খেয়াল রাখতে হবে। আপনারা তালি দিচ্ছেন, কথাটা শেষ করতে হবে। আপনাদেরও পরিণতি এরকম না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণপ্লাজায় স্বাক্ষর করা জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে বলে জানান তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা বাস্তবায়ন করে। যে জুলাই সনদ দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি স্বাক্ষর করেছিল তা বাস্তবায়ন হবে। এর মধ্যে কোনো ‘ইফস’ বা ‘বাটস’ নাই।
তিনি বলেন, কিন্তু যদি জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরানোর অপচেষ্টা করা হয়, তা হবে আত্মঘাতি। আওয়ামী লীগ যেভাবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের সম্পত্তি মনে করেছিল, কেউ যদি মনে করে জুলাই সনদ নিজেদের সম্পত্তি, সেটি হবে ভুল এবং আত্মঘাতি। বাংলাদেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা মুখে বলেন একত্রিতভাবে কাজ করার কথা। কিন্তু মুখে মধু অন্তরে বিষ রেখে লাভ হবে না। আমাদেরকে বাংলাদেশকে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একত্রিতভাবে কাজ না করি, তাহলে খাল কেটে কুমির আনা হবে। তাই তাদের (বিরোধী দল) আহ্বান জানাতে চায়, আমরা যেন বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা না করি।
সংসদে বিতর্ক করার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, তবে সেখানে আমরা যেন কোন ন্যারেটিভ তৈরি না করি। যেখানে, বিএনপি বা আপনাদের জোটে যে দলগুলো আছে যারা জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করছে।
জুলাই শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, একাত্তরের ৩০ লাখ, ৩ লাখ নিয়ে এখনো বিতর্ক হচ্ছে। আমরা জুলাই নিয়ে বিতর্ক করতে চায় না। ৫০ বছর, ১০০ বছর পর জুলাই নিয়ে কোন বিতর্ক রেখে যেতে চাই না।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)