মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে অন্যের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, সবাই সবার পেশাকে সম্মান জানালে সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চক্ষু চিকিৎসকদের বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে তা চিকিৎসাসেবায় প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব। এতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশে যাওয়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
আগামী ৫০ বছর দেশের মানুষের সেবা দিতে পারে- এমন দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিকল্পনা করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জাতীয় নীতিনির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না। চক্ষু রোগে আক্রান্ত মানুষকে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা গেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণ আরও সহজ হবে।
জনকল্যাণে মরণোত্তর চক্ষু ও অঙ্গদানের মতো মহৎ উদ্যোগে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চিকিৎসকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা জানান, দেশের প্রায় ৫ শতাংশ শিশু জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন চক্ষুজনিত সমস্যা নিয়ে জন্মায়। এসব সমস্যার একটি বড় অংশ চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য বলেও উল্লেখ করেন তারা।
দিনব্যাপী এ বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আসা ৩৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন (নিউটন) উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জানে আলম মৃধা। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের নেতা এবং চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।