বৃহঃস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এতে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
একের পর এক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-লংগদু, দীঘিনালা-সাজেক সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গত দুই দিনে আটকা পড়েছে প্রায় ৫ শতাধিক পর্যটক। সাজেক সড়কের কবাখালী, সীমানা ছড়া, মাচালং বাজার ও বাঘাইহাট বাজার পয়েন্টে সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
সড়কের পানি না নামলে আজ বৃহস্পতিবারও সাজেকে পর্যটকদের অবস্থান করতে হবে। অন্যদিকে মেরুং এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মেরুং এলাকায় বিভিন্ন স্থানে প্রধান সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কারণে দীঘিনালা -লংগদুর সাথে এখনো সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
মাইনী নদীর পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। দীঘিনালা উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি রয়েছে প্রায় ৮ হাজার মানুষ।
মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনা চাকমা জানান, দীঘিনালা উপজেলায় মেরুং ইউনিয়ন এলাকায় বন্যায় পানিবন্দি পরিবারগুলোকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাবার ও বিশুদ্ধ পানি দেওয়া হচ্ছে।
কবাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা জানান, কবাখালী ইউনিয়নের ৭টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত পরিবারের সদস্যদের মাঝে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
দীঘিনালা উপজেলায় বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার নির্দেশক্রমে দীঘিনালা বিএনপির নেতাকর্মীরা বন্যায় কবলিত পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হলে দীঘিনালা উপজেলার বিস্তর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষজন পানিবন্দি হয়ে আছে। ২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৮০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।