শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
গণভোট কিংবা জুলাই সনদ ইস্যুতে আন্দোলনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলের রাজপথের আন্দোলন রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করবে বিএনপি। এ নিয়ে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরির শঙ্কা নেই বলে জানান দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
আন্দোলনে নেমে তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায় বলে মনে করছেন নেতারা। তারা বলছেন, রাজপথে পাল্টা কর্মসূচি নয়, বরং নিজেদের অবস্থান ও কর্মকাণ্ড দিয়ে জনগণকে আস্থায় আনাই বিএনপির লক্ষ্য।
স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে নিজেদের অঙ্গীকার বারবার উল্লেখ করছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই সনদের প্রতিটি শব্দ, অক্ষর এক এক করে বাস্তবায়ন করবো। তবুও রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় জামায়াত নেতৃত্বাধীন সংসদের বিরোধী জোট।
তবে এরইমধ্যে বিরোধীদল থেকে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। সরকার গঠনের দুই মাসের মধ্যেই রাজপথে তাদের এমন কর্মসূচিকে সন্দেহের চোখেই দেখছে বিএনপির তৃণমূল। যাদের কেউ রাজপথেই মোকাবেলা করতে চান, আবার কেউ মনে করছেন বাস্তবতা বুঝতে পারবে জামায়াত।
দলটির এক কর্মী বলেন, বিরোধী দল ভুল ধরিয়ে দিলে তা রাষ্ট্রের কল্যাণে হলে গ্রহণ করতে হবে। তবে মিথ্যা অভিযোগে দলকে ধ্বংসের চেষ্টা করলে তা রুখে দিতে হবে। আরেকজন বলেন, সাধারণ মানুষ এবং জনগণের আন্দোলন না হলে সেটা হলো বিরোধীদলের স্বার্থ হাসিলের একটা আন্দোলন।
সাধারণ কর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও বিরোধী জোটের রাজপথের কর্মসূচিকে স্বাভাবিকভাবেই দেখতে চান বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। তারা বলছেন, এটি গণতান্ত্রিক চর্চা। জ্বালানি ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদল নিয়ে কমিটি গঠনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সহনশীল মানসিকতাই প্রমাণ করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ক্ষমতায় থাকা দলকে জনগণের স্বার্থ সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যারা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে, তাদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে সুস্থিরভাবে আলোচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, দাবি-দাওয়া জানাতে হলে যে পদ্ধতিগুলো আছে সেটা অনুসরণ করতে হবে। তবে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের মেয়াদ ও কার্যক্রম যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে যে ‘হটাও বা জোর করে থাকো’ সংস্কৃতি ছিল, সেখান থেকে উভয় পক্ষই সরে এসেছে। এই মানসিকতাকে ধরে রেখে জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে এক জায়গায় আনা গেলে দেশের অস্থিরতা কমবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো আন্দোলনের কারণে জনভোগান্তি বাড়লে এবং সুবিধাবাদী চক্র সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমানে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখছেন না, কারণ সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলকে দমন করার কোনো আক্রমণাত্মক চেষ্টা, অভিপ্রায় বা পরিকল্পনা নেই।
মূলত নিজেদের কর্মকাণ্ড ও সদিচ্ছা জনগণের সামনে তুলে ধরাই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান বিএনপি নেতারা। দলটির ইশতেহার বাস্তবায়নের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও বিএনপি আন্তরিক। সেক্ষেত্রে একই ইস্যুতে রাজপথে বিরোধী জোটের উস্কানির মুখে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়ার কথা ভাবছে না বিএনপি।
দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিরোধী দল আন্দোলনের নামে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায়। তবে জনগণকে সচেতন করে ইশতেহার ও জনকল্যাণে সরকারের লক্ষ্য পূরণই বিএনপির উদ্দেশ্য।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)