বৃহঃস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩


পুলিশের মানসিক স্বাস্থ্য : আত্মহত্যা ঝুঁকি বাড়ছে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত:২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২০

ছবি ‍: সংগৃহীত

ছবি ‍: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পুলিশসহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের পেশা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই পেশার প্রকৃতি এমন যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিনিয়ত তীব্র মানসিক চাপ, উচ্চ ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা প্রায়শই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক অস্থিরতার সম্মুখীন হন। তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হওয়া সত্ত্বেও তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

এই প্রতিকূল পরিবেশ সদস্যদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, যার চরম পরিণতি হিসেবে বিষণ্নতা এবং আত্মহত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু বিয়োগান্তক ঘটনা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, এই বাহিনীর অভ্যন্তরে ‘নীরব মানসিক স্বাস্থ্য সংকট’ ঘনীভূত হচ্ছে। এই সংকটকে কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি বাহিনীর পেশাদারিত্ব, কর্মদক্ষতা এবং সামগ্রিক জননিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে মাগুরা এবং কুষ্টিয়ায় কনস্টেবল ও উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের আত্মহত্যার ঘটনা এবং তাদের সুইসাইড নোটে কর্মস্থলের অসহনীয় চাপের স্বীকারোক্তি এই সংকটের প্রাথমিক সংকেত দিলেও ২০২৪ সালে তা আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুনে ঢাকার বারিধারায় কনস্টেবল কর্তৃক সহকর্মীকে গুলি করার ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রজনিত তীব্র মানসিক ক্লান্তি এবং মানসিক সমস্যার এক চরম উদাহরণ হিসেবে সামনে আসে। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও দেশব্যাপী সহিংসতার ফলে এই বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ‘সারভাইভারস গিল্ট’ বা সহকর্মীদের হারিয়ে বেঁচে যাওয়ার অপরাধবোধ এবং গভীর ট্রমা তৈরি হয়।

বর্তমানে এই সদস্যদের মধ্যে পরোক্ষ মানসিক আঘাতজনিত চাপ প্রবল হয়ে উঠেছে, যার ফলে ডিউটিরত অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া, হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে যাওয়া কিংবা নিজ অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপত্তাহীনতা, জনগণের সাথে আস্থার সংকট এবং যথাযথ মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসার অভাব এই বাহিনীকে দিনে দিনে এক অস্থির ও ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকৃতি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে সাধারণত যেসব মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা যায়, সেগুলোর মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, বার্নআউট এবং অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যা প্রধান। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জনবল সংকট, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব, সামাজিক চাপ এবং পেশাগত অনিশ্চয়তা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করে।

দায়িত্ব পালনকালে সদস্যরা প্রায়শই সহিংসতা, ভয়াবহ দুর্ঘটনা কিংবা মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন, যা দীর্ঘমেয়াদে অনেকের মনেই গভীর মনস্তাত্ত্বিক আঘাত বা ট্রমা তৈরি করে। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও কাঠামোগত কারণ দায়ী:

১. পেশাগত উচ্চ ঝুঁকি ও ট্রমা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতিনিয়ত এমন সব ভয়াবহ এবং বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় যা সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে। গবেষণায় দেখা গেছে, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ তার সারা জীবনে মাত্র কয়েকবার আঘাতজনিত বা ট্রমাটিক ঘটনার সম্মুখীন হন, সেখানে একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা তার কর্মজীবনে গড়ে প্রায় ১৭৮টি অত্যন্ত সংকটময় বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ঘটনার মোকাবিলা করেন।

পারিবারিক সহিংসতা, শিশু নির্যাতন এবং হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনাগুলো প্রত্যক্ষ করার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের পুঞ্জীভূত মানসিক আঘাত বা Cumulative Trauma তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি ঘটনার মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার বা সেটিকে প্রক্রিয়াজাত করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাওয়ার আগেই তাদের পরবর্তী জরুরি ডাক বা কলে সাড়া দিতে হয় (NAMI, 2021; Violanti et al., 2017)।

২. দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও ঘুমের তীব্র অভাব: বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতিতে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে, জননিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর অনেক সদস্যকে গড়ে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই অতিরিক্ত সময় কাজ করা বর্তমানে একটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা তাদের শরীরে ও মনে চরম ক্লান্তি সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিশ্রামহীন পরিশ্রম ও অনিদ্রা সরাসরি মস্তিষ্কের সেরোটোনিন নামক রাসায়নিকের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়, যা আমাদের মেজাজ ও বিচারবুদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। যখন সেরোটোনিন কমে যায়, তখন মানুষের আবেগীয় নিয়ন্ত্রণ বা ‘ইমোশনাল রেগুলেশনের’ ক্ষমতা হারিয়ে যায়। মনস্তাত্ত্বিক ‘স্লিপ ডেপ্রাইভেশন থিওরি’ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স ঠিকমতো কাজ করতে পারে না, ফলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞানশূন্যতা বা হ্যালুসিউনেশন হতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ধকলই এক পর্যায়ে একজন সদস্যকে আত্মহত্যার মতো মারাত্মক ও হঠকারী সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়।

৩. কাঠামোগত ও সামাজিক চাপ: বেশিরভাগ সময়ই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এক তীব্র কাঠামোগত ও সামাজিক চাপের মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে সীমিত জনবল নিয়ে বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা প্রতিনিয়ত ‘রোল ওভারলোড’ বা অতিরিক্ত কাজের চাপের শিকার হন।

বাহিনীর কঠোর চেইন অফ কমান্ড বা প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে অনেক সময় অধস্তন সদস্যরা তাদের মানসিক যন্ত্রণা বা সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রকাশ করতে পারেন না, যা তাদের মনে এক ধরনের গুমোট পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এর পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ক্ষোভ ও নেতিবাচক সমালোচনা তাদের আত্মমর্যাদাবোধকে প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে হীনম্মন্যতার দিকে ঠেলে দেয়।

এই পরিস্থিতিকে Emile Durkheim-এর ‘ফ্যাটালিস্টিক সুইসাইড’ তত্ত্ব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়, যেখানে অতি-নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং কঠোর নিয়মকানুনের চাপে পিষ্ট হয়ে ব্যক্তি নিজেকে চরম অসহায় মনে করতে শুরু করে এবং Lazarus-এর ‘ট্রানজ্যাকশনাল মডেল অফ স্ট্রেস’ অনুযায়ী যখন পরিবেশগত চাহিদা ব্যক্তির মোকাবিলা করার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যায়, তখন সমাজ থেকে ইতিবাচক সমর্থনের অভাব তার এই মানসিক বিপর্যয়কে আরও ত্বরান্বিত করে আত্মঘাতী পরিণতির দিকে নিয়ে যায় (Lazarus & Folkman, 1984)।

৪. পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা: উৎসব-পার্বণেও ছুটি না পাওয়া এবং পরিবার থেকে দূরে থাকা ব্যক্তির মধ্যে একাকীত্ব তৈরি করে। যখন একজন সদস্য বারবার পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত হন, তখন তার মধ্যে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়। Thomas Joiner-এর তত্ত্ব মতে, এই ‘বিচ্ছিন্নতাবোধ’ বা আপনজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার অনুভূতি দীর্ঘমেয়াদে গভীর বিষণ্নতা সৃষ্টি করে, যা একজন মানুষকে মানসিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ও একা করে ফেলে।

৫. সামাজিক কুসংস্কার: এই বাহিনীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি সময়ের সাথে সাথে উন্নত হলেও, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক কুসংস্কার-এর কারণেও এই কর্মকর্তাদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সহায়তা নিতে দ্বিধাবোধ করেন। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই সদস্যরা বিভিন্ন নেতিবাচক সামাজিক ধারণাগুলোকে নিজেদের অবচেতনে ধারণ করেন, যা প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়; এমনকি কর্মকর্তাদের মানসিক যন্ত্রণা যত বৃদ্ধি পায়, এই কুসংস্কার বা লোকলজ্জার ভয়টি তাদের কাছে তত বেশি তীব্র হয়ে ওঠে (Silva, 2025)।

মূলত তারা সমাজ বা সহকর্মীদের কাছে ‘দুর্বল’ বা ‘অক্ষম’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় পান এবং আশঙ্কা করেন যে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পেশাদার সাহায্য চাওয়া তাদের ক্যারিয়ারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিশ্চিতভাবে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এমন অর্ধেকেরও বেশি (৫০ শতাংশ) সদস্য মনে করেন যে বাহিনীতে মানসিক সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে এক ধরণের কুসংস্কার বিদ্যমান (NAMI, 2021)।

গবেষণায় দেখা গেছে যদিও ৭২ শতাংশ সদস্য কর্মক্ষেত্রের চাপ নিয়ে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, কিন্তু এই কুসংস্কারের প্রভাবে বেশিরভাগ সদস্যই বাস্তবে সেসব আলোচনায় অংশগ্রহণ করার সাহস পান না।

পাশ্চাত্য বিশ্বের মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কৌশল

পাশ্চাত্য দেশগুলোয় (বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়া) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত আধুনিক এবং বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

নিচে তাদের প্রধান ব্যবস্থাপনা কৌশলগুলো আলোচনা করা হলো:

১. বাধ্যতামূলক মেন্টাল হেলথ চেক-আপ: অনেক পাশ্চাত্য দেশে প্রতি বছর বা প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার এই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যের জন্য কাউন্সিলিং, সাইকোথেরাপি বা সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট বাধ্যতামূলক। এতে কোনো বড় সমস্যা হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

২. সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ: পাশ্চাত্য দেশগুলোয় পুলিশ বাহিনীর ভেতরে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে যেখানে মানসিক সমস্যার কথা বলাকে ‘দুর্বলতা’ নয় বরং ‘সাহসিকতা’ হিসেবে দেখা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের নিজেদের মানসিক চাপের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন, যাতে অধস্তনরা কথা বলতে উৎসাহিত বোধ করেন।

৩. সহকর্মীভিত্তিক সহায়তা কার্যক্রম: এটি অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এখানে সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকেই কিছু ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যারা তাদের সহকর্মীদের প্রাথমিক মানসিক সংকটে পাশে দাঁড়ান। একজন সহকর্মীর কাছে মনের কথা বলা যতটা সহজ, একজন বাইরের কোনো অচেনা মানুষের কাছে বলা ততটা সহজ নয়-এই নীতিতেই এটি কাজ করে।

৪. মানসিক আঘাত সম্পর্কিত সংবেদনশীলতা: কোনো বড় সহিংসতা বা দুর্ঘটনার পর সেখানে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট স্ট্রেস ডি-ব্রিফিং’ (CISD) করা হয়। অর্থাৎ, ঘটনার পরপরই পেশাদার মনোবিজ্ঞানীদের মাধ্যমে তাদের ট্রমা কাটিয়ে তোলার সেশন নেওয়া হয়।

৫. কর্মঘণ্টা ও বিশ্রামের সুষম বণ্টন: পাশ্চাত্য দেশগুলোয় এই সদস্যদের ডিউটি রোস্টার অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। পর্যাপ্ত ঘুম এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর বিষয়টি সেখানে আইনিভাবে নিশ্চিত করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি ‘বার্নআউট’ প্রতিরোধ করে।

৬. ফ্যামিলি সাপোর্ট নেটওয়ার্ক: কেবল সদস্য নয়, তার পরিবারের সদস্যদেরও কাউন্সিলিং সেবার আওতায় আনা হয়। কারণ পরিবারের শান্তি ও সহযোগিতা একজন সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রোবট নন, তারাও মানুষ। তাদের হাতে অস্ত্র থাকে, কিন্তু সেই মনের ভেতরেও থাকে আবেগ এবং ক্লান্তি। পাশ্চাত্য বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্যকে কেবল একটি ব্যক্তিগত বিষয় হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে পেশাগত নিরাপত্তা হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাংলাদেশেও যদি এই ধরণের কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং সময়োপযোগী মনোবৈজ্ঞানিক প্রশিক্ষণ ও কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই বাহিনীর সদস্যদের বিষণ্নতা, আত্মহত্যার প্রবণতা এবং কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি মানসিকভাবে সুস্থ বাহিনীই একটি রাষ্ট্রকে আরও সুদৃঢ় নিরাপত্তা দিতে সক্ষম।

ড. জেসান আরা : সহযোগী অধ্যাপক ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত বিষয়:

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:১৩ - ৫:২৭ ভোর
যোহর ১১:৫৭ - ৪:২০ দুপুর
আছর ৪:৩০ - ৬:১৮ বিকেল
মাগরিব ৬:২৩ - ৭:৩৭ সন্ধ্যা
এশা ৭:৪২ - ৪:০৮ রাত

বৃহঃস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬