বৃহঃস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২
ফাইল ছবি
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও যথারীতি একই গ্রুপে পড়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান। তবে এই ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। যদিও তারা ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রথমে জানায়নি। পরবর্তীতে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় ভারত ম্যাচে খেলবে না পাকিস্তান। এমন সিদ্ধান্তের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
গতকাল (বুধবার) মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ বলেন, ‘আমরা টি-২০ বিশ্বকাপ নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি যে, আমরা ভারতের বিপক্ষে খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি হওয়া উচিত নয়। আমরা খুবই বিবেচনামূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকা উচিত। আমি মনে করি ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট ছিল উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’
তার সেই মন্তব্য যুক্ত করে বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ পাকিস্তান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেছেন, বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তার দেশ ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের তিনি বলেন, আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা খুব ভেবেচিন্তে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমি মনে করি এটি খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হবে। আইসিসির পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী– টুর্নামেন্টের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সালমান-শাহিনদের দেশ ইতোমধ্যে ম্যাচটি বয়কটের কথা জানিয়েছে। এর আগে অবশ্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটেরও ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও বাংলাদেশের সঙ্গে করা বৈষম্য করার প্রতিবাদ জানান।
এদিকে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিরাট অঙ্কের আর্থিক লোকসানে পড়বে আইসিসি। সবমিলিয়ে তারা ৬ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সে কারণেই নড়েচড়ে বসে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ এই সংস্থা। তারা পাকিস্তানকে বিষয়টি পুনরায় বিবেচনার আহবান জানায়। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে পিসিবির পাশাপাশি আইনি সমস্যায় পড়বে আইসিসিও। কারণ, সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের যখন চার বছরের চুক্তি হয়েছিল, তাতে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচও ছিল। এই ম্যাচের কারণেই চুক্তির অঙ্ক বেড়েছে। এখন সেই ম্যাচ না হলে সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে। ফলে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে আইসিসিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে তারা।
এর আগে বাংলাদেশ নিরাপত্ত উদ্বেগ জানিয়ে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা দেয়। একইসঙ্গে আরেক আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিজেদের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়ে আসছিল বিসিবি। সেই সিদ্ধান্ত বদলানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপরই দৃশ্যপটে আসে পাকিস্তানের ভারত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)