রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২


বিশ্বকাপ ফাইনাল– ভারতের ইতিহাস নাকি নিউজিল্যান্ডের প্রথম ট্রফি?

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত:৮ মার্চ ২০২৬, ১২:৫৭

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম প্রস্তুত। ১৪৭ কোটি ভারতীয় স্বপ্ন দেখছে— ঐতিহাসিক মাঠে সবুজ ঘাসের ওপর বসানো পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে নীল জার্সিতে সোনালি রঙয়ের ট্রফি নিয়ে উৎসব করছেন সূর্যকুমার যাদবরা। এই স্বপ্ন কি বাস্তবে রূপ নেবে নাকি নিস্তব্ধতার রাত নেমে আসবে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে?

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। আজ (রোববার) তারা সন্ধ্যায় নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। কার তকদিরে ট্রফি? তা নির্ধারণ হয়ে যাবে দিবাগত রাতের আগেই। তবে ভারতীয় দর্শকদের চাওয়া একটাই— ভারতের বিজয় উল্লাস, যেমনটা ২০২৪ সালের জুনে দেখেছিল।

ভারত দুইবার বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন, কিন্তু দুটি ট্রফির মাঝে তফাৎ ১৭ বছরের। এবার টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ, তাও আবার ঘরের মাঠে। প্রথম কোনো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে ফাইনালে ওঠার পর ইতিহাস গড়ার হাতছানি গৌতম গম্ভীরের দলের সামনে। প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার ট্রফি জিতবে তারা এবং স্বাগতিক হিসেবেও প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হবে।

আগের দুটি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে দাপট দেখিয়ে হারানোর পর চতুর্থবার ফাইনালে ভারত। প্রথম দল হিসেবে রেকর্ড তিনটি শিরোপা জেতার সুযোগ তাদের সামনে। এমন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলার অপেক্ষায় নিউজিল্যান্ড।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফিন অ্যালেনের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে তারা সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করে। অথচ পুরো টুর্নামেন্টে তাদের ভুগতে দেখা গেছে। অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বিশ্বাস করে, তার দল শিরোপা জিতবে। তিনি বলেন, ‘একইভাবে যদি আমরা আমাদের খেলা খেলি, তাহলে আরেকটি বড় দলের বিপক্ষে অঘটন ঘটাতে পারব।’

তাছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনবারের দেখায় প্রত্যেকবার নিউজিল্যান্ড শেষ হাসি হেসেছে। পরিসংখ্যান তাই ব্ল্যাক ক্যাপদের পক্ষে। অন্যদিকে ভারতের বিরুদ্ধে থাকছে অতীত পরিসংখ্যান। কোনো দল স্বাগতিক হিসেবে এখন পর্যন্ত শিরোপা জেতেনি, টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি কেউ। তাছাড়া এই আহমেদাবাদে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে তাদের দর্প চূর্ণ করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

সেই ভেন্যুতেই যখন খেলা, তাও আবার লাখো ক্রিকেট ভক্তের সামনে। টিভিতেও যেখানে কোটি কোটি চোখ থাকবে, সেখানে চাপ থাকা স্বাভাবিক। সূর্যকুমার বললেন, ‘অবশ্যই চাপ ও স্নায়ুর লড়াই থাকবে, বিশেষ করে ভারতেই যখন খেলা এবং শিরোপার লড়াই। কিন্তু ছেলেরা ও পুরো সাপোর্ট স্টাফরা বেশ রোমাঞ্চিত।’

বাহ্যিক চাপের সঙ্গে ভারতের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ব্যাটার ও বোলারের ফর্ম। ওপেনিং ব্যাটার অভিষেক শর্মা ও শীর্ষস্থানীয় স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী সুবিধা করতে পারছেন না এই আসরে। গ্রুপে টানা তিন ম্যাচ ডাক মারার পর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ফিফটি তার উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স। বরুণ তো ইংল্যান্ড ব্যাটারদের নির্দয় আচরণের শিকার। চার ওভারে দেন ৬৪ রান। গ্রুপ পর্বের পর থেকে মাত্র চার উইকেট নিয়েছেন তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই দুজনের নিষ্ক্রিয়তা যখন ভাবাচ্ছে, তখন দলের ব্যাকআপ ওপেনার সাঞ্জু স্যামসন ওপেনিংয়ে এসে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। টানা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সর্বোচ্চ রান করে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়। আর বোলিংয়ে জসপ্রীত বুমরাহ আবারো চেনারূপে ফিরে ইংল্যান্ড বধে অসামান্য অবদান রাখেন।

নিউজিল্যান্ড উত্থান পতনের মধ্যে দিয়ে গেছে। শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের কাছে হারার পর ঘুরে দাঁড়ায় তারা। সেমিফাইনালে অপরাজিত প্রোটিয়াদের মাটিতে নামায়। সঠিক সময়ে তাদের সব খেলোয়াড় ফর্ম ফিরে পেয়েছে এবং ভারতকে চুপ করে দেওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তি তাদের আছে।

স্যান্টনার কিন্তু সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন দলকে নিয়ে, ‘এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জের হতে যাচ্ছে যেখানে সবাই জানে আমরা সম্ভবত ফেভারিট নই। কিন্তু হ্যাঁ, ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে কিছু হৃদয় ভাঙতে আমার আপত্তি নেই।’ তিন বছর আগে এই আহমেদাবাদেই অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ঘোষণা দিয়েছিলেন– গ্যালারির দর্শকদের নিস্তব্ধ করে দিতে চান এবং শেষে পর্যন্ত পেরেছিলেন তিনি। স্যান্টনারেরও সেই একই ধরনের হুঙ্কার! তাহলে প্রথম বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে কি ভারতের হৃদয় ভাঙতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড নাকি তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে একাধিক রেকর্ড গড়বে ভারত?

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)
আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৫:০৩ - ৬:১৩ ভোর
যোহর ১২:১০ - ৪:১৪ দুপুর
আছর ৪:২৪ - ৫:৫৮ বিকেল
মাগরিব ৬:০৩ - ৭:১৩ সন্ধ্যা
এশা ৭:১৮ - ৪:৫৮ রাত

রবিবার ৮ মার্চ ২০২৬