শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
চায়ের দেশ সিলেটের সবুজ উইকেটে প্রথম দিনেই ব্যাকফুটে চলে গেল স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম টেস্টে হারের পর স্লো ওভাররেটের কারণে জরিমানা- সব ধাক্কা ভুলে দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই ছড়ি ঘোরাচ্ছে পাকিস্তানের বোলাররা। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর মাত্র ১৫ রানের ব্যবধানে শান্ত, মুশফিক ও মিরাজের উইকেট হারিয়ে মধ্য-সেশনেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।
লাঞ্চের আগে ৩ উইকেটে ১০১ রান তুলে বাংলাদেশ যখন ম্যাচে ফেরার স্বপ্ন দেখছিল, বিরতি থেকে ফিরেই সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেন পাকিস্তানি পেসাররা। থিতু হয়ে যাওয়া অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯ রান করে মোহাম্মদ আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের এক বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে বসেন। শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। কিন্তু খুররম শাহজাদের ভেতরে ঢুকে আসা এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন তিনি। আম্পায়ার্স কলের মারপ্যাঁচে রিভিউ নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি মুশফিকের (২৩)।
দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ক্রিজে এসে থিতু হতে পারেননি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। খুররমের করা এক বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে হাসান আলীর হাতে ক্যাচ দেন তিনি। শান্ত আর মুশফিকের ৪৭ রানের জুটিটা যখন ইনিংস মেরামতের কাজ করছিল, ঠিক তখনই মাত্র ১৫ রানের ভেতর ৩ উইকেট হারিয়ে এক প্রকার দিশেহারা হয়ে পড়ে টাইগাররা।
এর আগে ম্যাচের একদম দ্বিতীয় বলেই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে শূন্য রানে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে উড়ন্ত সূচনা এনে দিয়েছিলেন আব্বাস। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম অভিষেক ম্যাচে ২৬ রান করে ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। লাঞ্চের ঠিক আগ মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা মুমিনুল হককে (২২) ক্লিন বোল্ড করে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিয়ে নেন খুররম।
প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনেই স্বাগতিকদের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে সিলেট টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি শান মাসুদের দলের হাতে। ম্যাচের বাকি সময়ে ঘুরে দাঁড়াতে এখন লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।