রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
শিল্পখাতের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে কর্মসংস্থান-উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়তে ‘এইচআর সামিট-২০২৬’ আয়োজন করেছে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ (এইচআর) প্রধান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), করপোরেট নির্বাহী ও শিল্পখাতের নেতারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের (সিসিডি) আয়োজনে ‘এইচআর সামিট-২০২৬ : আজকের মেধাকে আগামী দিনের নেতৃত্বের জন্য সক্ষম করে তোলা’ শীর্ষক এ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য কেবল ডিগ্রিধারী গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা নয়। আমরা শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ, নৈতিক ও কর্মোপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত কর্মপরিবেশে টিকে থাকতে প্রযুক্তি-দক্ষতা, সফট স্কিল, নৈতিকতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে অভিযোজনের সক্ষমতা অপরিহার্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, দিনব্যাপী আয়োজিত এ সম্মেলনে দেশের ৩৫টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রধান, সিইও, করপোরেট নির্বাহী ও শিল্পখাতের নেতারা অংশ নেন। তারা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চাহিদা, নেতৃত্ব বিকাশ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরাও করপোরেট নেতাদের কাছে নিজেদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর জানার সুযোগ পান।
সম্মেলন সম্পর্কে গ্রিন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং সেন্টার ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের (সিসিডি) পরিচালক ড. সিরাজুম মুনিরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটিই প্রথম জাতীয় এইচআর সামিট। এতে অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের এইচআর প্রধান, সিইও ও করপোরেট নেতারা শিল্পখাতের বর্তমান চাহিদা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং নতুন গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি তাদের প্রত্যাশার কথা সরাসরি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেছেন।
তিনি বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে শিল্পখাত ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা। শিক্ষার্থীরা করপোরেট নেতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছে, যা ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গঠনে তাদের সহায়ক হবে।
এআই নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা প্রসঙ্গে ড. সিরাজুম মুনিরা বলেন, অনেকেই মনে করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের চাকরির বিকল্প হয়ে উঠবে। বাস্তবে এআই মানুষের বিকল্প নয়; বরং এটি একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি। তাই শিক্ষার্থীদের এআইকে ভয় না পেয়ে এর যথাযথ ব্যবহার শিখে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান চাকরির বাজারে ভালো ফলাফলের পাশাপাশি সফট স্কিল, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং নিজেকে কার্যকরভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসব দক্ষতা কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যক্রমের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব নয়; বরং কর্মশালা, সেমিনার, ক্লাব কার্যক্রম ও এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাবের আল মাহমুদ বলেন, করপোরেট নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি তাদের প্রত্যাশা, নিয়োগের মানদণ্ড এবং বাস্তব কর্মপরিবেশ সম্পর্কে জানার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের জন্য নিজেকে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী মারজিয়া বলেন, সম্মেলন থেকে আমি ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, কার্যকর সিভি তৈরি এবং কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পেয়েছি। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই নিয়মিত হলে তারা আরও সুপরিকল্পিতভাবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারবে।
মারজিয়া আরও বলেন, রাজধানী ও বড় শহরের শিক্ষার্থীদের তুলনায় মফস্বলের শিক্ষার্থীরা এখনো প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষা সুবিধায় পিছিয়ে রয়েছে। এ বৈষম্য কমাতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, উন্নত প্রযুক্তি, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এদিকে আয়োজকরা বলছেন, দিনব্যাপী এ সম্মেলনে তিনটি প্যানেল আলোচনা ও দুইটি রাউন্ড টেবিল সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ, করপোরেট নির্বাহী ও শিল্পখাতের নেতারা ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ, নেতৃত্ব বিকাশ, ইন্টার্নশিপ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করছেন।