রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে দলের করণীয় নির্ধারণে বৈঠক করেছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি।
শনিবার (০১ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেষ হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের গতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং দলের সার্বিক সাংগঠনিক বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য পায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াই ছিল বৈঠকের প্রধান এজেন্ডা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে দলের উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপরই ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিয়েছে দলের স্থায়ী কমিটি।
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্পিকার অস্থায়ীভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আইন অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত। তফসিল ঘোষণা হলে দলের পক্ষ থেকে কে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হবেন, সেই দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীকে স্থায়ী কমিটি ন্যস্ত করেছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে কোনো নাম প্রস্তাব বা এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আমরা দলের চেয়ারম্যানের ওপরই ন্যস্ত করেছি। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে যদি একক প্রার্থী থাকেন, তাহলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না। আর একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে দিনক্ষণ নির্ধারণ করবে।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, আমরা চলতি বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত আছি। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি চলছে।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির অন্তত দুই সদস্য জানান, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন দলের চেয়ারম্যান। পরে সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের আসন্ন বাংলাদেশ সফর এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা আরও সুদৃঢ় রাখার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিএনপি প্রধান।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার পরই রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বরে বসতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন হতে পারে।