শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস প্ল্যাটফর্ম ফর পিপলস হেলথ (ডিপিপিএইচ)।
শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘হামে শিশুমৃত্যু : জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোনো রোগের বিস্তার যখন সময়, স্থান ও আক্রান্তের সংখ্যা বিবেচনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থা তা সামাল দিতে হিমশিম খায়, তখন সেটি জনস্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতিতে পরিণত হয়। বর্তমান হামের বিস্তার সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছে ডিপিপিএইচ। তাই দ্রুত ‘জরুরি পরিস্থিতি’ ঘোষণার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এ সময় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সরকার এরইমধ্যে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিলসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিচ্ছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পরিস্থিতিকে জরুরি হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। অন্যদিকে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাবেক পরিচালক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, হাম অত্যন্ত দ্রুত ছড়ায় এবং টিকা দেওয়ার পর কার্যকারিতা পেতে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সেবা প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ জরুরি।
তিনি আরও জানান, আগে হামে আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি হাজারে তিনজনের মৃত্যু হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে, যা উদ্বেগজনক। মৃত্যুহার বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রান্তিক শিশুরা। শিশু বিশেষজ্ঞ কাজী রকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামের টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি পরবর্তী জটিলতা প্রতিরোধেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংগঠনটি কয়েকটি জরুরি উদ্যোগের প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে রয়েছে সারা দেশে অবিলম্বে গণটিকাদান কর্মসূচি চালু, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য উপজেলা থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, টিকা নিয়ে ভুল ধারণা ও গুজব প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, শক্তিশালী রোগ নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ঘোষণা।
এছাড়া নীতিগত সুপারিশ হিসেবে পুষ্টি ও ভিটামিন-এ কার্যক্রম জোরদার, অপুষ্ট শিশুদের অগ্রাধিকার, মাতৃদুগ্ধপান উৎসাহিত করা, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি, হাম নির্মূল কৌশলপত্র পুনরুজ্জীবন, টিকার সরবরাহ ও উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং স্বাস্থ্যকে জনগণের মৌলিক অধিকার হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দেশের ছয় বিভাগে নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানানো হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)