রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩


সালমান-আনিসুলের মামলা

অতিরিক্ত ৭ সাক্ষী চায় প্রসিকিউশন, ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হবে বলল ডিফেন্স

আদালত প্রতিবেদক

প্রকাশিত:৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সাত সাক্ষীর জবানবন্দি নিতে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। তবে মামলার এ পর্যায়ে নতুন করে সাক্ষী আনার এই উদ্যোগকে ‘ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা’ বলে দাবি করেছে ডিফেন্স।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হয়। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।

শুনানিতে তামিম বলেন, সালমান-আনিসুলের এ মামলায় আমরা আরও অতিরিক্ত সাতজন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেছি। গত ৩ সেপ্টেম্বর এ আবেদনের পাশাপাশি ডিফেন্স আইনজীবীদেরও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একজন সাক্ষীকে আজ হাজির করা হয়েছে।

এ সময় ডিফেন্স আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, প্রসিকিউশন আবেদন করতেই পারে। কিন্তু মঞ্জুর করা হবে কিনা তা ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার। তবে এ নিয়ে আমাদের আপত্তি রয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন। ফরমাল চার্জের সময় কেন প্রসিকিউশন এসব সাক্ষী আনতে পারেনি। মামলার এ পর্যায়ে অতিরিক্ত সাক্ষী আনা মানে ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করা।

ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, মামলার যেকোনো পর্যায়ে অতিরিক্ত অ্যাভিডেন্স আনতে পারে প্রসিকিউশন।

তখন দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে পলাশ বলেন, আমরা ৩ সেপ্টেম্বর এসব সাক্ষী পেলেও প্রস্তুতি নিতে পারেনি। আমাদের সিনিয়র আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী অসুস্থ। তাই সাক্ষ্য নিলেও আমাদের জেরার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার প্রার্থনা করছি।

পরে ১২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মো. শাকিল আহমেদ। তিনি ক-গেজেটভুক্ত একজন জুলাইযোদ্ধা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন এই সাক্ষী।

এদিন সকালে কারাগার থেকে সালমান ও আনিসুলকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০২৫ সালের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের আনা পাঁচটি অভিযোগের প্রথমটিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এর প্রেক্ষিতেই ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের কথোপকথনের একপর্যায়ে শোনা যায় ওদের শেষ করে দেওয়া। অর্থাৎ আজ রাতেই কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দিতে হবে বলে জানান সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় প্রাণ দিয়েছেন বহু ছাত্র-জনতা। কিন্তু নির্যাতন বন্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি তারা।

দ্বিতীয়ত সালমান-আনিসুলের জ্ঞাতানুসারে ২৩ জুলাই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অর্থাৎ তাদের প্ররোচনা-উসকানিতে মিরপুরে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় বাহিনী। তৃতীয়ত মারণাস্ত্র ব্যবহারে প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র করেছিলেন এই দুই প্রভাবশালী। তাদের উসকানি ও সহায়তায় ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এ হত্যাযজ্ঞ ঘটে। চতুর্থ অভিযোগে বলা হয়, কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনায় ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ আকাশ, সেতু, আলভীসহ ১২ জনকে হত্যা করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

পাঁচ নম্বরে বলা হয়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঠেকাতে পরিকল্পনা করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। তাদের নির্দেশে প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের হামলায় মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বরে আল-আমিন, আশরাফুল, সাব্বির, রিতাসহ ১৬ জন হত্যার শিকার হন।

আরো পড়ুন

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

নামাজের সময়সূচি

ওয়াক্ত সময়সূচি
ফজর ৪:২৫ - ৫:৩৭ ভোর
যোহর ১১:৫৭ - ৪:১৬ দুপুর
আছর ৪:২৬ - ৬:০৭ বিকেল
মাগরিব ৬:১২ - ৭:২৩ সন্ধ্যা
এশা ৭:২৮ - ৪:২০ রাত

রবিবার ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬