রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
ছবি : সংগৃহীত
সরকারি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সব দেশের প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র’ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইইউ বলেছে, এয়ারবাসের প্রস্তাব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক এবং এটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে এক বৈঠকে ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইক মিলার এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যা চাই, তা হলো সবদিক থেকে একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র। যদি সরকারি ক্রয়ের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাহলে সেটি যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয় এবং আমাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় প্রতিযোগিতা করতে পারে।’
এর মাধ্যমে বাংলাদেশের করদাতাদের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাইক মিলার বলেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের প্রস্তাব অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে আলোচনা খুব দ্রুত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি।’
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং এসব দূর করতে বাংলাদেশ সরকার এরইমধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে বা নেওয়ার কথা ভাবছে, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়।
মিলার বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইইউর চলমান কাজের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সময় বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ এমন সময়ে অংশীদার এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের প্রয়োজন অনুভব করছে, যখন আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।
‘আমরা আপনাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার। আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাস করি, ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করি এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি,’ তিনি বলেন।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে মসৃণ উত্তরণসহ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ইইউর কাজের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সরকারের সাফল্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর পুনরুজ্জীবন এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধির জন্য ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা।
অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মাইক মিলার বলেন, এ কাজ বাংলাদেশের পাশাপাশি ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদেরও স্বার্থে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি স্বচ্ছতা, সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি, বৈষম্যহীনতা এবং কোনো প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে ব্যক্তি যাতে তার ক্ষমতা বা পদমর্যাদার অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার বিষয়।’
ইইউ বাংলাদেশের সবুজ ও ডিজিটাল রূপান্তরেও সহযোগিতা করতে চায় বলেও জানান তিনি।