বৃহঃস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২
ছবি-সংগৃহীত
অবৈধ সম্পদ এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাংবাদিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিসুর রহমান আলমগীর ওরফে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য বলেন।
তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা অনুযায়ী মামলাটি রুজু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। দুদকের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান শিগগিরই মামলাটি দায়ের করবেন।
দুদক জানায়, আনিসুর রহমান আলমগীরের নামে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮৯ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে তার ব্যয় পাওয়া যায় ১৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ফলে ব্যয়সহ তার নামে মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা।
অন্যদিকে আনিসুর রহমান আলমগীরের সম্পদ অর্জনের ক্ষেত্রে দুদকের অনুসন্ধানে খাতওয়ারি বৈধ আয়ের পরিমাণ ও অর্জিত সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধান অনুযায়ী, তার নামে মোট অর্জিত সম্পদের মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭৮৯ টাকা, যেখানে সর্বশেষ আয়কর নথি অনুযায়ী নীট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৬৬৮ টাকা। যার মধ্যে গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয়ের মোট পরিমাণ ৯৯ লাখ ৯ হাজার ৮৫১ টাকা। আয়ের বিপরীতে তার অর্জিত মোট সম্পদের সঙ্গে তুলনা করলে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৮ হাজার ৯৩৮ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়, যা মোট সম্পদের প্রায় ৭৭ শতাংশ।
আনিস আলমগীর দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে সম্প্রতি আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন তিনি। ফেসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা রযেছে। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ১৪ ডিসেম্বর রাত ৮টার পর সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।)